১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে বিদায় করে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা আরও একবার প্রমাণ করল কেন তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। টানটান উত্তেজনায় ভরা কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল। নির্ধারিত সময়ে দুই দল ১-১ গোলে সমতায় থাকলেও অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের শেষভাগে সুইজারল্যান্ড ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় সেই সুবিধাও কাজে লাগায় আর্জেন্টিনা।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১২ জুলাই) কানসাস সিটির মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের নবম মিনিটেই কর্নার আদায় করে তারা।
লিওনেল মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে সুইস রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নেয় আর্জেন্টিনা। বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকানজি। সেই সুযোগে গোলমুখে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ম্যাক অ্যালিস্টার। গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের কিছুই করার ছিল না। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে সুইজারল্যান্ড চেষ্টা চালালেও সমতায় ফিরতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার লক্ষ্যে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে সুইজারল্যান্ড। ধারাবাহিক চাপের ফলও পেয়ে যায় তারা। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোল আদায় করে সুইসরা। বাঁ প্রান্তে রদ্রিগেজের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস বিনিময়ের পর এনদোয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন। তার নিখুঁত কোণাকুণি শটে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ পরাস্ত হন এবং ম্যাচে সমতা ফিরে আসে।
বিজ্ঞাপন
গোল শোধ করার পর সুইজারল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস বাড়লেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ধাক্কা খায় দলটি। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
প্রথমে রেফারি পারেদেসকে ফাউলের অভিযোগে সতর্ক করলেও পরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির সহায়তায় দেখা যায়, প্রকৃতপক্ষে কোনো সংস্পর্শই হয়নি। প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বা অভিনয়ের কারণে এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ফলে শেষভাগে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় সুইজারল্যান্ডকে।
একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়ে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। ৯০তম মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের ক্রস থেকে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড অল্পের জন্য গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে থেকে লিওনেল মেসির নেওয়া বাঁকানো শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ অ্যাক্রবিেটিক ভলিতে গোলের চেষ্টা করলেও সেটি সহজেই আটকে দেন সুইস গোলরক্ষক কোবেল। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
বিজ্ঞাপন
অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের লড়াই ছিল সমান তীব্র। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা ও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই পার্থক্য গড়ে দেয়। অতিরিক্ত সময়ের ১১২তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজ অসাধারণ এক দূরপাল্লার শটে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেন। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার বাঁকানো শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়িয়ে পড়লে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে সুইজারল্যান্ড। তবে সেই সুযোগেই পাল্টা আক্রমণে আরও একবার সফল হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষদিকে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করে ব্যবধান ৩-১-এ উন্নীত করেন এবং জয়ের সব ধরনের সম্ভাবনার ইতি টানেন। তার এই গোলের পর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি সুইসরা।
পুরো ম্যাচে লিওনেল মেসি গোল করতে না পারলেও আক্রমণ সাজানো, কর্নার থেকে সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলেই শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
বিজ্ঞাপন
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শেষ চার নিশ্চিত করল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল মেসির দল। আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত আর্জেন্টিনা এখন সেমিফাইনালে একই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। অন্যদিকে দারুণ লড়াই করেও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো সুইজারল্যান্ডকে।








