ম্যারাডোনার রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন লিওনেল মেসি

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি আবারও নিজের নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে দলের প্রথম গোল তৈরিতে অবদান রেখে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড অতিক্রম করেছেন তিনি। একই সঙ্গে গত ছয় দশকের বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোল অবদানের নতুন নজিরও গড়েছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১২ জুলাই) কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের নবম মিনিটে কর্নার কিকের সুযোগ পায় লিওনেল স্কালোনির দল। সেই কর্নার থেকেই আসে ম্যাচের প্রথম গোল।
লিওনেল মেসি নিখুঁতভাবে বল ভাসিয়ে দেন সুইজারল্যান্ডের বক্সে। উঁচুতে উঠে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্যর্থ হন সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকানজি। তার সেই ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলমুখে বল পেয়ে জালে পাঠান অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের কিছুই করার ছিল না। এই গোলেই ম্যাচে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ম্যাক অ্যালিস্টারের এই গোলটি শুধু দলকে এগিয়ে দেয়নি, মেসির ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও যুক্ত করেছে নতুন এক মাইলফলক। গোলটিতে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের মোট গোল অবদান ১৫-তে উন্নীত করেন তিনি। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে এই সংখ্যা গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে যেকোনো ফুটবলারের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিজ্ঞাপন
এর মাধ্যমে তিনি ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে পেছনে ফেলেছেন। এমবাপের নকআউট পর্বে গোল অবদান ছিল ১৪টি। মেসি সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে এখন এককভাবে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছেন।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে ডিয়েগো ম্যারাডোনার অর্জনও অতিক্রম করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে ম্যারাডোনার নাম উচ্চারিত হলেও এবার সেই তালিকায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন মেসি।

এই বিশ্বকাপে এটি মেসির দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট। আর বিশ্বকাপের বিভিন্ন আসর মিলিয়ে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সফল প্লেমেকার হিসেবেও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
মেসির অর্জনের তালিকা এখানেই শেষ নয়। ফুটবল ইতিহাসে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের বিশ্বরেকর্ডও তার দখলে। এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি সতীর্থদের দিয়ে ৪১০টি গোল করিয়েছেন, যা অন্য যেকোনো ফুটবলারের চেয়ে বেশি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন আরেকটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন মেসি। তিনিই প্রথম ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে অন্তত একটি করে অ্যাসিস্ট করতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের এই নজির বিশ্ব ফুটবলে বিরল।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির সৃজনশীল অবদানও ঈর্ষণীয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি এখন পর্যন্ত সতীর্থদের দিয়ে ৬২টি গোল করিয়েছেন। গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ সাজানো এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বরাবরের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চলমান বিশ্বকাপেও গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই ফুটবলার। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিনি ৮টি গোল করেছেন। সব বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১-এ, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি দলের সাফল্যেও সমানভাবে অবদান রেখে চলেছেন মেসি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তার তৈরি করা প্রথম গোলটি আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। পরে অতিরিক্ত সময়ে আরও দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপের প্রতিটি ধাপে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে চলা মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, শুধু গোল করাতেই নয়, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণেও তার প্রভাব কতটা গভীর। ব্যক্তিগত অর্জন, দলের সাফল্য এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।








