চুয়াডাঙ্গা–২ আসনে বাবু খানের পরাজয়ের কারণ

চুয়াডাঙ্গা–২ (জীবননগর–দামুড়হুদা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর প্রার্থী ও বিজিএমইএ–এর বর্তমান সভাপতি মাহমুদ হাসান খান (বাবু খান)–এর পরাজয় নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এ আসনে ধারাবাহিক নির্বাচনী প্রচারণা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে বাবু খান ব্যক্তি হিসেবে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি সজ্জন, ভদ্র ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সমর্থকদের মধ্যেও তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ছিল বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
বিজিএমইএ–এর সভাপতি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে তার পরিচিতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা তাকে আলোচনায় রেখেছিল। নির্বাচিত হলে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত ছিল।
তবে এসব ইতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও তার পরাজয়ের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দলের কিছু নেতাকর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে গত দেড় বছরে মাঠপর্যায়ে কিছু নেতাকর্মীর আচরণ জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্র ও সচেতন মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, কুড়ুলগাছি রায়সার বিলসহ বিভিন্ন বিল দখলের অভিযোগ ওঠে কিছু প্রভাবশালী নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। বিল ইজারা ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রভাব খাটানোর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি করে।
এছাড়া পশুহাটে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগও সামনে আসে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের একাংশ অভিযোগ করেন, কিছু নেতা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন।
বিভিন্ন থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, মামলা-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গেও কয়েকজন নেতার নাম জড়ানোর অভিযোগ আলোচনায় আসে। কোথাও কোথাও জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল বা দখলের হুমকির অভিযোগও উঠে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করে।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা সম্মিলিতভাবে একটি নেতিবাচক জনমত তৈরি করে। প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তার আশপাশের কয়েকজন নেতার কর্মকাণ্ড ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
সব মিলিয়ে, চুয়াডাঙ্গা–২ আসনে বাবু খানের পরাজয়কে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; বরং সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ডজনিত রাজনৈতিক ক্ষতির ফল হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।








