চুয়াডাঙ্গা -১ বিএনপির পরাজয়ের নেপথ্যে ত্যাগী নেতাকে উপেক্ষার অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা সদর–১ আসনে বিএনপির পরাজয় নিয়ে দলীয় অঙ্গনে চলছে তীব্র আলোচনা ও আত্মসমালোচনা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের মতে, এই আসনে পরাজয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় সেই দিনই, যেদিন দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত একজন নেতাকে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্র জানায়, ছোটবেলা থেকেই এলাকায় পরিচিত ওই নেতা ছিলেন ভদ্রতা, শালীনতা ও সবার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহারের জন্য। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ নয়, বরং সহযোগিতার রাজনীতি চর্চা করেছেন।
বিশেষ করে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারা বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সে সময় পুলিশের বাধা, ভয়ভীতি কিংবা রাজনৈতিক ঝুঁকি উপেক্ষা করে মাঠে থাকার বিষয়টি আজও স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে আলোচিত।
বিজ্ঞাপন
দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, যোগ্য ও ত্যাগী এই নেতাকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয় এমন ব্যক্তিদের, যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতি, দলীয় গ্রুপিং এবং তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার অভিযোগ। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে নির্বাচনের ফলাফলে।
একজন প্রবীণ নেতাকর্মী বলেন, “এই মানুষটা জীবনের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর রাজনীতি করেছে। কিন্তু তাকে মূল্যায়ন না করে দালালি-নির্ভর রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। মানুষ এখন আর দালালি খায় না—মানুষ চায় সততা ও ত্যাগ।”
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গেও কথা বলে জানা যায়, অনেকেই এই সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে ভোটকেন্দ্রে আগ্রহ হারান, কেউ কেউ বিকল্প পথ বেছে নেন। এতে দলীয় ভোটব্যাংক বিভক্ত হয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চুয়াডাঙ্গা সদর–১ আসনের ফলাফল বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—
যোগ্যতা ও ত্যাগ উপেক্ষা করে কেবল গ্রুপিং ও প্রভাবের রাজনীতি করলে, তৃণমূলের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত আত্মসমালোচনা ও সাংগঠনিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।







