চুয়াডাঙ্গায় যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও ভরাডুবির পেছনে সাংগঠনিক দুর্বলতা

চুয়াডাঙ্গা–১ ও ২ আসনে যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির বিএনপির প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না আসার পেছনে একাধিক অভ্যন্তরীণ কারণ উঠে এসেছে। তৃণমূল নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে দলের ভেতরের সাংগঠনিক দুর্বলতাই পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।
বিজ্ঞাপন
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল নির্বাচনী মাঠে নেতাকর্মীদের ঐক্যে ভাঙন সৃষ্টি করে। একাংশ অন্য অংশের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ না করায় ভোটের দিনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে ভোটারদের কাছে সমন্বিত বার্তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এছাড়া উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব পদে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর প্রচারণা ব্যাহত হয়।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলে কাজ করা সৎ ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নও পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক অভিজ্ঞ কর্মীকে উপেক্ষা করে বিতর্কিত ও অদক্ষ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দলীয় কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয় এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রত্যাশিত উদ্যম দেখা যায়নি।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা আরও জানান, কিছু নেতার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। পাশাপাশি এলাকায় অজনপ্রিয় ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখায় সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ পুরো সংগঠন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব বিষয় সময়মতো সংশোধন করা গেলে নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত। তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফল পেতে হলে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্ব বাছাইয়ে স্বচ্ছতা, শুদ্ধতা ও সাংগঠনিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।







