৩৫ বছর পর চুয়াডাঙ্গা–২ আসনে জামায়াতের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চুয়াডাঙ্গা–২ সংসদীয় আসনে আবারও বিজয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে এ আসন থেকে বিজয়ী হওয়ার পর দীর্ঘ সময় এককভাবে নির্বাচনে সক্রিয় না থাকলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনে চার গুণেরও বেশি জনসমর্থন নিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করেছে দলটি।
বিজ্ঞাপন
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা–২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ৪৯ হাজার ৬৮৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তবে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলটি ৪৮ হাজার ৯৪৪ ভোট পেলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর প্রার্থী হাজী মোজাম্মেল হকের কাছে ১৫ হাজার ৮১১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়।
পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি–জামায়াত জোটগতভাবে অংশ নেয়। এরপর দীর্ঘ সময় এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনে নতুন উদ্যমে মাঠে নামে দলটি।
বিজ্ঞাপন
এবারের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের প্রার্থী রুহুল আমিন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তিনি মোট ২ লাখ ১০ হাজার ১১১ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৯ ভোট। ফলে জয়ী প্রার্থী ৪৬ হাজার ৮১২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ ব্যবধানটি প্রায় সমান ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতের মোট প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে। ১৯৯৬ সালে দলটি যেখানে পেয়েছিল ৪৮ হাজার ৯৪৪ ভোট, সেখানে ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ১১১-এ। অর্থাৎ, গত তিন দশকেরও বেশি সময়ে এ আসনে দলটির জনসমর্থন চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পুনর্গঠন, মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা এবং ভোটারদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই এ বিজয়কে দেখা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা–২ আসনে জামায়াতের এই প্রত্যাবর্তন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








