Logo

ধুনটে পাতা বিক্রির হিরিক, ঝড়ে যাচ্ছে কাঁঠালের পুষ্পমঞ্জরী

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ধুনট, বগুড়া
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৩:০৮
ধুনটে পাতা বিক্রির হিরিক, ঝড়ে যাচ্ছে কাঁঠালের পুষ্পমঞ্জরী
ছবি: প্রতিনিধি

জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু স্বাদ ও পুষ্টিগুণেই সমৃদ্ধ নয়, এর পুষ্পমঞ্জরীর গঠন ও ফল ধারণের প্রক্রিয়াও অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা নিয়ে ধুনট উপজেলা-এর বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে দুলতে শুরু করেছে কাঁঠালের পুষ্পমঞ্জরী। তবে এর মধ্যেই শুরু হয়েছে কাঁঠাল গাছের পাতা বিক্রির হিরিক, যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে কৃষক ও সচেতন মহলে।

বিজ্ঞাপন

আঞ্চলিক ভাষায় কাঁঠালের পুষ্পমঞ্জরীকে অনেক জায়গায় ‘মুচি’ বা ‘মুচা’ বলা হয়। কাঁঠাল গাছে পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা পুষ্পমঞ্জরীতে জন্মায়।

পুরুষ পুষ্পমঞ্জরী সাধারণত সংখ্যায় বেশি, লম্বাটে ও নরম গঠনের হয় এবং সেখান থেকেই পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরী তুলনামূলক বড়, শক্ত ও গোলাকার, যা গাছের কাণ্ড বা মোটা ডালের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকে। পরাগায়নের পর স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরীর ভেতরের অসংখ্য ক্ষুদ্র ফুল একত্রে বৃদ্ধি পেয়ে একটি সম্পূর্ণ কাঁঠালে পরিণত হয়। এ কারণেই কাঁঠালকে যৌগিক ফল বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বসন্তের শেষ ভাগ থেকে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত কাঁঠাল গাছে পুষ্পমঞ্জরীর উপস্থিতি বেশি থাকে। অনুকূল আবহাওয়ায় পরাগায়ন ভালো হলে ফলনও আশানুরূপ হয়। তবে খরা, অনিয়মিত বৃষ্টি বা পোকামাকড়ের আক্রমণে পুষ্পমঞ্জরী ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফল ধারণ ব্যাহত হয়।

চলতি মৌসুমে ধুনট উপজেলায় অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি পুষ্পমঞ্জরী দেখা গেলেও কাঁঠাল গাছের পাতা বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছের সব পাতা এককালীন বিক্রি করে দিচ্ছেন মালিকরা। ক্রেতা বা পাইকাররা এসব পাতা স্থানীয় বাজার কিংবা ছাগলের খামারে সরবরাহ করছেন।

গ্রামে গাছের আকারভেদে প্রতি গাছের পাতা ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরাঞ্চলে পাতার চাহিদা আরও বেশি। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত পাতা ছাঁটাই বা একসঙ্গে সব পাতা বিক্রি করলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে পুষ্পমঞ্জরী ঝরে যাওয়ার পাশাপাশি ফলের সংখ্যা ও মান উভয়ই কমে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের মতে, পাতা বিক্রি নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ভবিষ্যতে ভালো মানের পাকা কাঁঠাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকি নতুন প্রজন্ম কাঁঠালের প্রাচুর্য থেকেও বঞ্চিত হতে পারে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁঠাল গাছে নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিলে পুষ্পমঞ্জরী সুস্থ থাকে। এতে ফলের সংখ্যা যেমন বাড়ে, তেমনি ফলের আকার ও গুণগত মানও উন্নত হয়।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে, কাঁঠালের পুষ্পমঞ্জরীর সঠিক বিকাশের মধ্য দিয়েই আমাদের পরিচিত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর কাঁঠালের আগমন ঘটে। তাই স্বল্পমেয়াদি লাভের আশায় পাতা বিক্রি না করে দীর্ঘমেয়াদি ফলন নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

জেবি/আরএক্স
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD