Logo

সনাতন পদ্ধতির বিদায়, আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে কৃষকের মুখে হাসি

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নাটোর
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২১:৪৮
সনাতন পদ্ধতির বিদায়, আধুনিক সেচ প্রযুক্তিতে কৃষকের মুখে হাসি
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যেতে শুরু করেছে দেশের কৃষির চিত্র। কম সময়, কম খরচ এবং পানির সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে সেন্টার পিভট ইরিগেশন সিস্টেম। অস্ট্রিয়ার এই অত্যাধুনিক সেচ প্রযুক্তির মাধ্যমে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১২৫ একর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে। পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ শুরু হয়েছে নাটোরের বড়াইগ্রাম এলাকায়।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সেচ পদ্ধতিতে পাইপলাইনের সঙ্গে সংযুক্ত বিশেষ স্প্রিংকলারের মাধ্যমে ওপর থেকে বৃষ্টির মতো করে জমিতে পানি ছিটানো হয়। ফলে ফসল সমানভাবে পানি পায় এবং প্রচলিত সেচ পদ্ধতির তুলনায় পানির অপচয় অনেক কম হয়। একই সঙ্গে জমির উর্বরতা ও ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, বর্তমানে এটি দেশের সবচেয়ে আধুনিক ও পানি সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তিগুলোর একটি। একটি মাত্র প্রকল্পের আওতায় ১২৫ একর জমিতে একযোগে সেচ দেওয়া সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের শ্রম ও খরচ—দুইই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও এই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। এক কৃষক জানান, এমন সেচ ব্যবস্থা তিনি আগে কখনো দেখেননি। তার মতে, এই পদ্ধতি চাষাবাদে বড় ধরনের উন্নতি আনবে।

আরেক কৃষক বলেন, আধুনিক এই সেচ ব্যবস্থার ফলে ফসলের উৎপাদন বাড়বে, যা তাদের জন্য আশাব্যঞ্জক।

সহকারী ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুব-উল ইসলাম জানান, আগে ১২৫ একর জমিতে সেচ দিতে প্রায় ২৫০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হতো এবং এতে সময় লাগত প্রায় ৬০ দিন। কিন্তু সেন্টার পিভট ইরিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করে এখন মাত্র পাঁচ দিনেই একই পরিমাণ জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে। এতে শ্রমিক নির্ভরতা কমার পাশাপাশি সময় ও ব্যয়ের সাশ্রয় হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নাটোর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের আধুনিক সেচ প্রকল্প কৃষকের মাঠ পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কম সময় ও কম পানি ব্যবহার করে বড় পরিসরে সেচ দেওয়ার এই আধুনিক ব্যবস্থা দেশের কৃষিতে এক ধরনের প্রযুক্তিগত বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে কৃষিখাত পাবে নতুন গতি।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD