সজনের পাপড়িতে প্রাকৃতিক রঙ, পুষ্টিতে মানবদেহের প্রতিরক্ষা

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই গাছে গাছে শ্বেতশুভ্র সবুজাভ সজনে ফুলের অপরূপ দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও বসন্ত আসতে এখনও কয়েক সপ্তাহ বাকি, তবু এই আগাম ফুলে এলাকা যেন বসন্তের পূর্বাভাস পেয়েছে। ঝুলে থাকা ফুলের প্রতিটি শাখা যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক চিত্রকলা, যা নয়নাভিরাম দৃশ্যের সঙ্গে সঙ্গে আনে সুস্থতা ও পুষ্টির বার্তা।
বিজ্ঞাপন
সজনে ফুলে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-৬, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রন, যা মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বসন্তকালে ভাইরাসজনিত রোগবালাই বাড়ার প্রাকৃতিক প্রবণতার মধ্যে এই ফুল যেন মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার এক প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা।
প্রকৃতির এই উপহার শুধু সৌন্দর্যই নয়, বরং পুষ্টি ও বাণিজ্যিকভাবে স্থানীয় কৃষকদের জন্য এক আশীর্বাদ। গাছে গাছে ঝুলে থাকা ফুল ও ডাঁটার মাধ্যমে ধুনট উপজেলার কৃষকরা সজনের চাষ থেকে লাভবান হচ্ছেন। শীতের পর ঋতু পরিবর্তনের সময় এই সবজির চাহিদা বেড়ে যায়। সজনের ডাঁটা, যা অনেক খাদ্যরসিকের প্রিয়, এবং এর পাতা, ফুল ও ফল—সবই পুষ্টি ও ঔষধিগুণে ভরপুর।
বিজ্ঞাপন

সজনের শ্বেতশুভ্র পাপড়ির সৌন্দর্য নানাভাবে অভিব্যক্ত হয়। অনেকের চোখে এ যেন নববধূর অলংকার, আবার কেউ কেউ এটিকে পুষ্পরাজ্যের রমণীর মতোই মনে করেন। তবে এই বাহারি ফুলের সৌন্দর্য স্থায়ী নয়; এক সময় ফুল ঝরে যাবে, তবে এর ডাঁটা ও পুষ্টিগুণ মানুষকে খাদ্য ও স্বাস্থ্য রক্ষায় উপকৃত করবে।
সাজানো এই সবজি ধুনট উপজেলার পাশাপাশি শ্যামল বাংলার কৃষকদের জন্য লাভজনক একটি বাণিজ্যিক উদ্ভিদ। সজনা শুধু ঋতু বিশেষ নয়, এখন এলাকা ভেদে বারোমাসই পাওয়া যায়, যা কৃষি ও পুষ্টি ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
বিজ্ঞাপন
ধুনটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ এই সজনে ফুল, স্থানীয় কৃষক ও খাদ্যপ্রেমীদের জন্য এক বিশেষ আনন্দ ও আশীর্বাদ বয়ে আনছে।








