ভূমি সেবায় ধীরগতির অবসান, শেরপুরে নামজারি এখন ১৬ দিনে

ডিজিটাল ভূমি সেবা চালু, নামজারি (মিউটেশন) প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং এসিল্যান্ডের তৎপরতায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভূমি অফিসগুলোতে ফিরেছে কাজের গতি। একসময় খাজনা-খারিজ ও জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে দীর্ঘসূত্রতা থাকলেও বর্তমানে দ্রুত নিষ্পত্তির কারণে বদলে গেছে সেই চিত্র।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মো: মাহমুদুল হাসান ১৬ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে সাবেক ইউএনও প্রায় ৪ মাস অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে নামজারি নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বহু আবেদন দীর্ঘদিন আটকে ছিল। এতে দৈনন্দিন কাজেও ভাটা পড়ে এবং জমি ক্রয়-বিক্রয় ব্যাহত হয়।
বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এখন নামজারির জন্য আবেদন করলে দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে। গড় নিষ্পত্তির সময় নেমে এসেছে ১৬ দিনে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি ৯ মাসে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে ১২ হাজার ৫১৬টি। যেখানে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ২৮টি এবং গড় নিষ্পত্তির সময় ছিল ৫৩ দিন।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া চলতি ৯ মাসে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে যা ছিল ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। একই সময়ে মিসকেস নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৫৭টি, যা আগের বছরে ছিল ৪৩৮টি।
ভূমি অফিসের সেবার মান উন্নয়নে নামজারি, খাজনা আদায়, খাসজমি ব্যবস্থাপনা, হাট-বাজার ইজারা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজ নবায়ন কার্যক্রমে গতি এসেছে। পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং ভূমি সহায়তা কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে সেবা সহজলভ্য করা হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে ১০ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২৫১৬০০ টাকা অর্থ দন্ড এবং ১৭ টি মামলায় ৮ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
৩১ মার্চ মঙ্গলবার সেবা নিতে এসে মির্জাপুর এলাকার শাহিন বলেন, একটি ভুলের কারণে তিনি খারিজের আবেদন নিয়ে সহকারী কমিশনারের কাছে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সমস্যার সমাধান পান। তিনি বলেন, “সরকারি অফিসে এমন দ্রুত সেবা পেয়ে আমি অভিভূত।”
পৌর শহরের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার পুটি বলেন, “বর্তমান কর্মকর্তার কাজের গতি ও ধরন আগের চেয়ে অনেক ভালো। সেবার মানও বেড়েছে।”
সুঘাট এলাকা থেকে আসা এক সেবাগ্রহীতা জানান, নামজারি করতে এসে কোনো হয়রানির শিকার হতে হয়নি। তবে তিনি স্থানীয় ভূমি অফিসে একজন পূর্ণাঙ্গ ভূমি সহকারী (নায়েব) নিয়োগের দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “ভূমি অফিস নিয়ে মানুষের অনেক অভিযোগ থাকে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিটি আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছি। একটি ফাইল হয়তো কারও জীবনের সঞ্চয়ের সঙ্গে জড়িত এই বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করি।”
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের চেয়েও দ্রুত সেবা দিতে অনেক সময় অফিস সময়ের বাইরে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট, উচ্ছেদ অভিযান ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার রানীরহাট এলাকায় দখল হয়ে যাওয়া একটি সরকারি খাল উদ্ধার করে সেখানে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া অবৈধ হাট-বাজার উচ্ছেদ, খাসজমি ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, “মানুষের সহযোগিতা থাকলে সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।”








