Logo

৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা, দুর্বিষহ জনজীবন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা
৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:৪৮
৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা, দুর্বিষহ জনজীবন
ছবি প্রতিনিধি।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছানোয় জনজীবন হয়ে উঠেছে চরম দুর্বিষহ। প্রখর রোদ আর তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে-খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩১ শতাংশ। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সেদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

হঠাৎ তাপমাত্রার এই ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না সাধারণ মানুষ। তীব্র গরমে শ্রমিক, দিনমজুর, ভ্যান-রিকশাচালক ও কৃষকদের কাজ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কের পিচ পর্যন্ত গলে যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে, বিশেষ করে পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় এমন দৃশ্য স্পষ্ট।

বিজ্ঞাপন

এদিকে তীব্র গরমে মানবিক উদ্যোগও চোখে পড়ছে। বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডিউটিরত পুলিশ সদস্য, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের শরবত ও স্যালাইন পান করাতে দেখা গেছে।

জেলার এক দিনমজুর আব্দুল করিম জানান, রোদে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। কাজ করতে গেলেই মাথা ঘোরে, তবুও জীবিকার তাগিদে কাজ বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দিনমজুর সোহেল রানা। তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরমে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে, মাঝেমধ্যে কাজ বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে, ফলে আয়ও কমে যাচ্ছে।

ভ্যানচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, দুপুরের দিকে রাস্তায় বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। গরমে যাত্রী কমে গেছে, আবার শারীরিকভাবেও কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাশেদ মাহমুদ জানান, অফিসে যাতায়াতই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইরে বের হলেই মনে হয় শরীর পুড়ে যাচ্ছে, ফলে স্বাভাবিক কাজ করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

তীব্র গরমের সঙ্গে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, যা ভোগান্তি বাড়িয়েছে কয়েকগুণ।

বিজ্ঞাপন

মোটরসাইকেল চালক বাকি বিল্লাহ বলেন, তেল নেওয়ার জন্য ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টকর।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে জেলায় মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি আগামী এক থেকে দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD