Logo

থেমে গেছে টংকাবতীর দুই পাড়ের মানুষের স্বপ্ন, বর্ষায় প্লাবনের আশঙ্কা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম
৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৮
থেমে গেছে টংকাবতীর দুই পাড়ের মানুষের স্বপ্ন, বর্ষায় প্লাবনের আশঙ্কা
ছবি: প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী টংকাবতী খালের ওপর নির্মাণাধীন আরসিসি গার্ডার সেতুর কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। এতে খালের দুই পাড়ের অন্তত চারটি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। হঠাৎ করেই থমকে গেছে তাদের বহুদিনের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্মিত বিকল্প ভাসমান সেতুটি ইতোমধ্যে দুই দফা ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমানে তা জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকাবাসী।

লোহাগাড়া উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার সংযোগস্থলে টংকাবতী খালের ওপর একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য প্রায় ৮ কোটি ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭.৩ মিটার প্রস্থের এই সেতুর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রামের মেসার্স নূর সিন্ডিকেট নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পাঁচটি স্প্যানের মধ্যে এখনো দুটি স্প্যানের কাজ বাকি রয়েছে। এছাড়া ২০টি গার্ডারের মধ্যে প্রায় আটটির কাজ অসম্পূর্ণ। সব মিলিয়ে সেতুটির প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ এখনো শেষ হয়নি।

২০২৩ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন হয়নি। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও এখনো কাজের অগ্রগতি আশানুরূপ নয়।

আমিরাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সেতুটি চালু হলে লোহাগাড়া থেকে সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত সহজ হবে। এটি দুই উপজেলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগ সেতু।”

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, “সেতুটি চালু হলে স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করতে পারবেন।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, “কিছু সমস্যার কারণে কাজ কিছুদিন বন্ধ ছিল। তবে খুব শিগগিরই পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।”

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, “সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে জরিমানা করা হবে এবং জরিমানা দিয়েই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।”

বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত সেতুর কাজ সম্পন্ন না হলে প্লাবন ও যাতায়াত দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD