Logo

মুজিবনগরে তিন ছাত্রকে ধর্ষণ, মাদ্রাসা ঘেরাও করে বিক্ষোভ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মেহেরপুর
১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:২৭
মুজিবনগরে তিন ছাত্রকে ধর্ষণ, মাদ্রাসা ঘেরাও করে বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরের মুজিবনগরে একটি মাদ্রাসায় তিন শিশু ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা মাদ্রাসা এবং থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। বৃহস্পতিবার রাতে মুজিবনগর কেদারগঞ্জ বাজার এলাকার মুজিবনগর আইডিয়াল মাদ্রাসা ও দারুল হিফজখানা বোর্ডিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

মুজিবনগর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মওলানা তাহাজ উদ্দিন এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা।

ভুক্তভোগী এক শিশুর অভিভাবক বাদী হয়ে থানায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয় এবং মাদ্রাসা থেকে ভুক্তভোগী শিশুদের উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তারকৃত নূর উদ্দিন (২৫) মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক। তিনি নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার টেংগাচোড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিশুরা এই বোর্ডিং মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করে। বৃহস্পতিবার রাতে তিন শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে।

মাদ্রাসাটি জামায়াত নেতার মালিকানাধীন হওয়ায় দলের কর্মীরা মাদ্রাসা রক্ষায় এগিয়ে আসলে স্থানীয়রা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষুব্ধরা তখন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িত শিক্ষকের গ্রেপ্তারের দাবিতে মুজিবনগর থানা ঘেরাও করেন।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, তার ছেলে মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির হিফজ বিভাগে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাতে আরেক ছাত্রের অভিভাবকের কাছ থেকে ঘটনা শুনে রাত ৩টার দিকে তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে ১০ বছর বয়সী ছেলেকে উদ্ধার করেন।

শিশুটি পরিবারকে জানিয়েছে, বোর্ডিংয়ের আরবি শিক্ষক নূর উদ্দিন তাকে সহ তিন ছাত্রকে মাঝেমধ্যে গভীর রাতে রুমে নিয়ে খারাপ কাজ করত। ঘটনার দিনও তার সঙ্গে ৩-৪ বার এমন কাজ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম ও মাজেদুর রহমান জানান, তারা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় কয়েকজনকে মাদ্রাসার দিকে ছুটতে দেখেন। তখন তারা জানতে পারেন ছাত্রদের সঙ্গে খারাপ কাজ করা হচ্ছে। ছেলেদের বাঁচাতে স্থানীয়দের সাহায্য চাইলে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে মাদ্রাসা ঘেরাও করে।

বিজ্ঞাপন

এ সময় জামায়াত কর্মীরা শিক্ষককে উদ্ধার করে মাদ্রাসা রক্ষায় এগিয়ে আসলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। পরে জনরোষ ও পুলিশের উপস্থিতিতে তারা পিছু হটেন। পুলিশ তখন মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে আটক করে এবং শিশুদের উদ্ধার করে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, এ ধরনের অভিযোগ আগেও শুনেছেন, তবে বিশ্বাস করেননি।

মাদ্রাসার শিক্ষক সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনার পরই মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি আরও জানান, মাদ্রাসার পরিচালক সেলিম হোসেন খান ও প্রিন্সিপাল হাফেজ বায়োজিত হোসেন।

বিজ্ঞাপন

ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে শিক্ষক প্রায়ই গভীর রাতে ছাত্রদের ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করতেন। শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুদের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD