‘হুজ হু’ সম্মাননায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন গাকৃবি ভিসি মোস্তাফিজুর

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মর্যাদাপূর্ণ ‘হুজ হু বাংলাদেশ-২০২৬’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। কৃষি ও মৃত্তিকা বিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন। অনুষ্ঠানে কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, সাংবাদিকতা ও সাহিত্যসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখা দেশের ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ‘হুজ হু বাংলাদেশ’-এর প্রধান নির্বাহী নাজিনুর রহিম ও সম্পাদক লুৎফুন নাহার তাপসীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
সম্মাননা প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং বাংলাদেশের কৃষি, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এ সম্মাননা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।” তিনি টেকসই কৃষি উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের পরিবেশগত মৃত্তিকা বিজ্ঞানে তিনি এক উজ্জ্বল নাম। ২০০৪ সালে গাকৃবির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে ২০০৮ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক (১৯৮৮) ও মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (১৯৯৩) সম্পন্ন করেন এবং জাপানের চিবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর গবেষণা ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা, চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস ও কিং আবদুল আজিজ সিটি ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ফেলোশিপ তাঁর সাফল্যের সাক্ষ্য বহন করে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া ইউএসডিএ, ড্যানিডা, ইউএসএইড ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মৃত্তিকা স্বাস্থ্য, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়েও তিনি শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের একজন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর গাকৃবি ও দেশের সেরা পাঁচজন কৃষি ও পরিবেশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ১৮৪৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘হুজ হু’ গুণীজনদের জীবনগাঁথা সংরক্ষণ ও তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে ২০১৬ সাল থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর এ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য কৃতী ব্যক্তিদের অনুপ্রেরণামূলক পথচলা তুলে ধরা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা জাগ্রত করা।








