শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত চুনারুঘাটে চা শ্রমিক সন্তানরা

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ২৪টি চা বাগানের মধ্যে ৯টিতে এখনও কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়নি। ফলে এসব বাগানে বসবাসরত হাজারো চা শ্রমিক পরিবারের শিশু মৌলিক শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। তারা এ বিষয়ে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়বিহীন বাগানগুলোর মধ্যে ৮টি চুনারুঘাট উপজেলায় এবং ১টি মাধবপুর উপজেলা-এ অবস্থিত। বাগানগুলো হলো— চন্ডীছড়া, রামগঙ্গা, চাকলাপঞ্জি, চাঁনপুর-জোয়ালভাঙ্গা, জঙ্গলবাড়ি, হাতিমারা, দেউন্দী, লস্করপুর ও বৈকুণ্ঠপুর চা বাগান।
বিজ্ঞাপন
এসব বাগানে কোথাও কোথাও বাগান কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সীমিত পরিসরে বেসরকারি শিক্ষা কার্যক্রম থাকলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, অবকাঠামো ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ। ফলে অধিকাংশ শিশুই প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার আগেই ঝরে পড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পুরো অঞ্চলের শিক্ষার হারেও।
বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানের শ্রমিক রনজিত কুমার বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবারসহ নানা সুযোগ-সুবিধা থাকে। কিন্তু তাদের বাগানে সরকারি স্কুল না থাকায় শিশুরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদ্যমান স্কুলটিও কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি ও চুনারুঘাট প্রেসক্লাব-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একটি গ্রামে যেখানে একাধিক সরকারি বিদ্যালয় রয়েছে, সেখানে হাজারো মানুষের বসবাস থাকা চা বাগানগুলোতে কোনো সরকারি স্কুল না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল এবং দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
এ বিষয়ে শাহ আলম জানান, বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের সদিচ্ছা ও নির্দেশনা পেলে দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চা শ্রমিকদের দাবি, শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা ও শিক্ষার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এসব চা বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হোক।








