মৌলভীবাজার প্রাণীসম্পদ হাসপাতালে সরকারি ওষুধ সংকটের অভিযোগ

মৌলভীবাজার জেলার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে সরকারি ওষুধ সংকটের কারণে গবাদি পশুর চিকিৎসায় ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
সেবাগ্রহীতাদের দাবি, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী অনেক ওষুধ হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের দেয়ালে দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান থাকলেও বাস্তবে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ খামারি ও পশুপালকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
একাধিক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা দিলেও ইনজেকশন বা অন্যান্য ওষুধ স্টকে না থাকায় বাইরে ফার্মেসি থেকে অতিরিক্ত খরচে কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে লাম্পি স্কিন রোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত গবাদি পশুর চিকিৎসায় এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
কিছু খামারি জানান, হাসপাতালে আনার পর রোগ নির্ণয় করে ইনজেকশন দেওয়া হলেও ৬ থেকে ১৪ দিনের ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। তাদের মতে, সরকারি হাসপাতালে এসেও সরকারি ওষুধ না পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।
অন্যদিকে, হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে এবং নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিজ্ঞাপন
ভেটেরিনারি হাসপাতালের কম্পাউন্ডার সুশিপ্তা দাশ জানান, স্টকে থাকা ওষুধ দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কোনো ওষুধ না থাকলে রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে পরামর্শ দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রমা পদ দে বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী যেসব ওষুধ আসে সেগুলোই বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় এবং স্টক রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, কর্মকর্তা ডা. মোঃ আশরাফুল আলম খান জানান, বছরে একবার ওষুধ সরবরাহ আসে এবং স্টকে থাকা ওষুধ রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ না থাকলে বাইরে থেকে কিনতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সেবাগ্রহীতারা দ্রুত পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন, যাতে সরকারি হাসপাতালে এসে মানুষকে আর বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে না হয়।








