পাবনায় ঈদুল আজহায় জাল টাকা রোধে প্রশাসনের বিশেষ সতর্কবার্তা

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গবাদি পশুর হাটে জাল টাকার সরবরাহ ও লেনদেন রোধে পাবনায় জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং স্থানীয় সকল তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল বুধবার (১৩ মে) বিকেলে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই সভাটি সম্পন্ন হয়।
পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম-এর নির্দেশনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন আলী। সভায় প্রধান কারিগরি পরামর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহীর কর্মকর্তা আব্দুল সোবহান। এছাড়াও পাবনায় কর্মরত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এতে অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
সভায় কোরবানির হাটে জাল টাকার অপতৎপরতা বন্ধে বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত দেন, জেলার প্রতিটি অনুমোদিত পশুর হাটে ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে বিশেষ বুথ স্থাপন করা হবে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা হাটে বসেই কোনো খরচ ছাড়াই আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে টাকা পরীক্ষা করে নিতে পারবেন। এছাড়াও বুথগুলো থেকে বড় অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। জাল টাকা চক্রের তৎপরতা বন্ধে এনএসআই সহ সকল গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে। এবং পশুর হাটে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রোধে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আব্দুল সোবহান ব্যাংক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন হাটে নিয়োজিত কর্মীরা সাধারণ মানুষকে জাল নোট চেনার উপায়গুলো সম্পর্কে সচেতন করেন।
বিজ্ঞাপন
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিটন আলী জানান, কোরবানির হাটে সাধারণ মানুষ যেন প্রতারিত না হয়, সে লক্ষে জেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের বড় অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে হাটে স্থাপিত বুথগুলোর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, একটি অসাধু চক্র বাজারে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করে। সাধারণ মানুষ এবং খামারিরা যেন তাদের সারাবছরের কষ্টের উপার্জনের বিনিময়ে প্রতারিত না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব।








