Logo

নদীর বাঁধ ভেঙে ডুবছে গ্রামের পর গ্রাম, বিপাকে কৃষকেরা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ
১৪ মে, ২০২৬, ১৩:১৮
নদীর বাঁধ ভেঙে ডুবছে গ্রামের পর গ্রাম, বিপাকে কৃষকেরা
ছবি: সংগৃহীত

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বন্যার পানি। এতে পাকা বোরো ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল তলিয়ে গেছে। ফসল হারানোর আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকেরা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৩ মে) রাত ১০টা পর্যন্ত হালুয়াঘাট উপজেলার মাজরাকুড়া, কুমারগাতী, আচকীপাড়া, তেলীখালী, কড়ইতলী, মহিষলেটি, গোবরাকুড়া, কালিয়ানিকান্দা, মনিকুড়া, রাংরাপাড়া, বুড়াঘাট, বোয়ালমারা, ডুমনীকুড়া, কাতলমারী, সূর্যপুর, সুমনিয়াপাড়া ও মহাজনীকান্দাসহ অন্তত ২০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়।

এদিকে পাশের ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ও গামারীতলা ইউনিয়নের কামালপুর, রায়পুর এবং বাঘবেড় ইউনিয়নের মেকিয়ারকান্দা ও দক্ষিণ ডোমঘাটাসহ কয়েকটি এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। অতিরিক্ত পানির চাপে বুধবার সকালে হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া এলাকায় মেনংছড়া নদীর বাঁধ এবং গাজীরভিটা ইউনিয়নের মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় বুড়াঘাট নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে আশপাশের নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি প্রবেশ করে।

একই দিন বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গামারীতলা ইউনিয়নের দক্ষিণ গৌরিপুর এলাকায় নেতাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে নতুন নতুন এলাকাও পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে।

হালুয়াঘাট উপজেলার বোয়ালমারা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরেই ভারী বৃষ্টির কারণে আতঙ্কে ছিলাম। শেষ পর্যন্ত ভয়টাই সত্য হলো, কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, নদীর বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। এখন আমাদের কী হবে? দ্রুত পানি না নামলে আমাদের স্বপ্ন নিঃশেষ হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

ধোবাউড়া উপজেলার কামালপুর গ্রামের কৃষক আসাদ মিয়া বলেন, তিন কাটা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলাম। বাঁধ ভেঙে সেই জমিও পানির নিচে চলে গেছে।

দুই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হালুয়াঘাটে সবচেয়ে বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলাটিতে ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭০ হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। ধোবাউড়ার কয়েকটি গ্রামের ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে দুটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে এবং দুটি কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। বৃষ্টি না হলে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, গামারীতলা, ঘোষগাঁও ও দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ফসলহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে কৃষকদের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD