Logo

ময়মনসিংহে আলোচনায় ৩৫ মণের ‘সাদাময়না’

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
২৪ মে, ২০২৬, ২০:৩৬
ময়মনসিংহে আলোচনায় ৩৫ মণের ‘সাদাময়না’
ছবি প্রতিনিধি।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠছে বিভিন্ন এলাকা। এরই মধ্যে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের চকরাধাকানাই গ্রামে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড় গরু। ‘সাদাময়না’ নামের এই গরুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।

বিজ্ঞাপন

সাদা-কালো রঙের বিশালদেহী ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টি এখন পুরো এলাকায় যেন এক অঘোষিত সেলিব্রিটিতে পরিণত হয়েছে। গরুটির মালিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক মো. নুরুল কাইয়ুম স্বপন। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি তিনি যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন খামারি। পশু লালন-পালনের প্রতি ভালোবাসা থেকেই দীর্ঘদিন ধরে যত্ন নিয়ে গড়ে তুলেছেন এই বিশাল ষাঁড়টি।

স্বপন জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো করে গরুটিকে লালন-পালন করছেন তিনি। বাড়ির উঠোনেই বড় হয়েছে ‘সাদাময়না’। গায়ের রং সাদা-কালো হওয়ায় পরিবারের সদস্যরাই আদর করে এমন নাম রেখেছেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে গরুটির ওজন প্রায় ৩৫ মণ। দৈর্ঘ্যে প্রায় সাড়ে ৯ ফুট, উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট এবং শরীরের গোলাকার পরিমাপ ৮ ফুটেরও বেশি। বিশাল আকৃতির কারণে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন।

গরুটির মালিক স্বপন বলেন, জন্মের পর থেকেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ষাঁড়টিকে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণ ওষুধ, ইনজেকশন বা কৃত্রিম খাদ্য ব্যবহার করা হয়নি। নিয়মিত পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমেই গরুটিকে এই অবস্থায় আনা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিদিন দুইবার গোসল করানো হয় ‘সাদাময়না’কে। খাবার হিসেবে দেওয়া হয় প্রায় ১০ কেজি গুঁড়াভূষি, ৫ কেজি খড় এবং ৫ কেজি কচি ঘাস। শুধু খাবারের পেছনেই প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া গরমের সময় গরুটির আরামের জন্য গোয়ালঘরে ২৪ ঘণ্টা সিলিং ফ্যান চালু রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

স্বপনের ছেলে ইমাম মেহেদী বলেন, “গরুটি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো। ছোটবেলা থেকেই আমরা খুব যত্ন করে বড় করেছি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ানো, হাঁটানো, গোসল করানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে এখন গরুটিকে দেখতে মানুষের ভিড় বেড়ে গেছে। অনেকে এসে ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। এলাকার শিশু-কিশোরদের কাছেও ‘সাদাময়না’ এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

গরুটির মালিক জানান, গত কোরবানির ঈদেও ‘সাদাময়না’ বিক্রির জন্য প্রস্তুত ছিল। সে সময় গরুটির দাম উঠেছিল প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা। তবে তিনি ১০ লাখ টাকার কমে বিক্রি করতে রাজি হননি। ফলে শেষ পর্যন্ত গরুটি বিক্রি করা হয়নি।

এবারও একই প্রত্যাশা নিয়ে ঈদের বাজারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বপন। তিনি বলেন, “এটা শুধু একটা গরু নয়, আমার দীর্ঘদিনের শ্রম, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের ফল। আমি আশা করছি, এবার কেউ আমার পরিশ্রমের সঠিক মূল্য দেবেন।”

তিনি আরও জানান, যিনি গরুটি কিনবেন, তার জেলার যেখানেই হোক না কেন, নিজ খরচে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করবেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ভাষায়, ঈদের আগে ‘সাদাময়না’ এখন পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গরুটি দেখতে মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকছে। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়কে ঘিরে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে আলাদা কৌতূহল ও আলোচনা।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD