Logo

টাকা ধার না দেওয়ায় কানের দুলের লোভে সেই শিশুকে হত্যা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বগুড়া
১৩ জুন, ২০২৬, ১৯:০৭
টাকা ধার না দেওয়ায় কানের দুলের লোভে সেই শিশুকে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকায় সাড়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটির কানে থাকা স্বর্ণের দুলের লোভেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

নিহত শিশুর নাম রাকা মুনি। সে সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান উদ্দিনের মেয়ে। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) বিকেলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো ওই দিনও রাকা বাড়ির কাছেই পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে আর বাড়ি ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশের বাড়িগুলোতে অনুসন্ধান চালানো হয়। একপর্যায়ে এক প্রতিবেশীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তার বাড়িতে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে বাড়ির মুরগির ঘরের ভেতরে একটি বস্তার মধ্যে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম এবং আরেক প্রতিবেশী বাবুকে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পারিবারিক জটিলতার কারণে রাকা মুনির মা আলাদা সংসার শুরু করার পর শিশুটি মূলত তার ফুফুর কাছেই বড় হচ্ছিল। বাবা কর্মসূত্রে বাইরে থাকায় ফুফুই তার দেখাশোনা করতেন। স্থানীয় একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করছিল সে।

বিজ্ঞাপন

নিহতের ফুফু লিপি আক্তার অভিযোগ করেন, কয়েকদিন ধরে অভিযুক্ত আমজাদ তাদের কাছে টাকা ধার চাইছিলেন। টাকা না পাওয়ার পর শিশুটির কানে থাকা প্রায় দুই আনা ওজনের স্বর্ণের দুলের প্রতি তার লোভ তৈরি হয়েছিল বলে তাদের ধারণা। তিনি মনে করেন, ওই দুল হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই রাকাকে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে স্বর্ণের অলংকারের লোভ থেকে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, আটক ব্যক্তিরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা সুস্থ হওয়ার পর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুহত্যার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে নিষ্পাপ এক শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD