Logo

নিষিদ্ধ দলে পদ না পেয়ে নেতাকর্মীদের ঝাড়ুমিছিল

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ
৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:০৭
নিষিদ্ধ দলে পদ না পেয়ে নেতাকর্মীদের ঝাড়ুমিছিল
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার নবঘোষিত কমিটিকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন কমিটিতে আর্থিক লেনদেন, বিবাহিত ব্যক্তি এবং অছাত্রদের পদায়নের অভিযোগ তুলে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের একটি অংশ ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এ ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ-আঠারবাড়ি সড়কে এই ঝাড়ুমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে মিছিলের ভিডিও ভাইরাল হতে থাকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরিহিত প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি ঝাড়ু হাতে সড়কে মিছিল করছেন। এ সময় তারা জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে পদ বণ্টন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের নীতিমালা উপেক্ষা করে বিবাহিত ও অছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘আরিফ ইমরান’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত পোস্টে দাবি করা হয়, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগের প্রতিবাদেই এ ঝাড়ুমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ঘটনাটিকে সংগঠনের জন্য লজ্জাজনক বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ‘২.০ লোডিং পেজ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকেও মিছিলের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে নবঘোষিত উপজেলা কমিটির সভাপতি শেখ অলিউল্লাহ রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির সায়মনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা কমিটি বাতিলের দাবি জানানো হয়।

জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আল-আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবিরের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের এক বছরের জন্য নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে শেখ অলিউল্লাহ রাসেলকে সভাপতি এবং আলমগীর কবির সায়মনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন পদে আরও বহু নেতাকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনা। সহসভাপতি পদ পাওয়া ঈশ্বরগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সিজান ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি এবং গঠিত কমিটি গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যক্তিগত আত্মসম্মানের কথা বিবেচনা করেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

একইভাবে সহসভাপতি পদে থাকা অর্ণব হোম চৌধুরীও সামাজিক মাধ্যমে জানান, তিনি বিবাহিত হওয়ায় সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সুযোগ নেই। তার দাবি, পূর্বানুমতি ছাড়াই নতুন কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এজন্য তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন।

সভাপতি পদপ্রত্যাশী রফিকুল ইসলামও সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় ও আত্মগোপনে থাকা ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিবাহিত ও অছাত্রদের অন্তর্ভুক্তি সংগঠনের নীতিমালার পরিপন্থী।

অন্যদিকে নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ অলিউল্লাহ রাসেল নিজের ফেসবুক পোস্টে দায়িত্ব পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পদ নয়, দায়িত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

তবে কমিটি গঠন নিয়ে ওঠা অর্থ লেনদেন, বিবাহিত ব্যক্তি এবং অছাত্রদের পদায়নের অভিযোগের বিষয়ে জেলা কিংবা উপজেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম গণমাধ্যমকে জানান, ঝাড়ুমিছিলের বিষয়টি তার জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD