স্কুলের জমি লিজের টাকা ফেরত দিলেন দুই বিএনপি নেতা

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি লিজের টাকা থেকে ভাগ করে নেওয়া ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন বিএনপির দুই নেতা। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের হস্তক্ষেপে তারা টাকা ফেরত দেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার সকালে দুই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে সমপরিমাণ টাকা জমা দেন। পরে টাকা জমার ভাউচার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে জমা দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে ২৪ ও ২৮ জুন বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১২ একর জমি প্রকাশ্যে মাইকিং করে স্থানীয় কৃষকদের কাছে প্রায় ৭ লাখ টাকায় লিজ দেওয়া হয়।
অভিযোগ ওঠে, ওই অর্থের মধ্য থেকে গ্রামের উন্নয়নের কথা বলে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন সুকাশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
গত ১৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের নির্দেশে ইউএনওসহ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা দুই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা উদ্ধারের নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই রবিবার বিকেলে অভিযুক্ত দুই নেতা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের কাছে টাকা ফেরত দেন।
বেলোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, তার প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ টাকা আব্দুস সোবহান রবিবার বিকেলে ফেরত দেন। পরে ওই অর্থ সিংড়া সোনালী ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানের যৌথ হিসাব নম্বরে জমা করা হয়। সোমবার এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনওকে অবহিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বেলোয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, তার প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে আজমল হোসেন ১ লাখ টাকা এবং আব্দুস সোবহান ওরফে নয়ন ৭০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। সোমবার সকালে সেই অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়ে ভাউচার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়।
টাকা ফেরত পাওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সিংড়ার ইউএনও নিশাত আনজুম দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।








