১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই

টাঙ্গাইলের বাসাইলে এলজিইডির প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গী এলাকায় সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের পরিবর্তে রাতে কাজ করা হচ্ছিল। এতে সন্দেহ হলে তারা নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। একপর্যায়ে রাতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার দৃশ্য দেখতে পান বলে দাবি করেন তারা। এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুটি পুনর্নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে এমন অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, সেতুর কাজ দিনের বদলে রাতে করা হচ্ছিল। রাতে এলাকার কয়েকজন গিয়ে সেখানে বাঁশ, বালি ও সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই দেওয়ার কাজ দেখতে পান বলে জানান তিনি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, সেতুর কিছু অংশে শাটার খোলার সুযোগ না থাকায় সেখানে বাঁশ দিয়ে স্ল্যাব তৈরি করে তার ওপর সিমেন্টের বস্তা দিয়ে কাঠামো বানিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এ কাজের দায় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের অধীন কাজ হওয়ায় বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।








