Logo

‘মাদকাসক্ত’ ছেলের অভিযোগ জানাতে থানায়, ফটকে লুটিয়ে পড়ে বাবার মৃত্যু

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লা
১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:৫২
‘মাদকাসক্ত’ ছেলের অভিযোগ জানাতে থানায়, ফটকে লুটিয়ে পড়ে বাবার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

সারা জীবন কৃষিকাজ করে সংসার চালিয়েছেন আবু তাহের মজুমদার (৭৫)। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে বড় করেছেন তিনি। জীবনের শেষ সময়ে এসে বড় ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন আবু তাহের। অভিযোগপত্র হাতে থানার মূল ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকার সময় হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। আবু তাহের মজুমদারের বাড়ি উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আবু তাহেরের বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে শরীফের বিরুদ্ধে বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিসও হয়েছে। তবে এসব সালিসের পরও পারিবারিক সমস্যার সমাধান হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শনিবার সকালে ছেলের সঙ্গে ঝামেলার পর দুপুরে তার বিরুদ্ধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে থানায় যান আবু তাহের। থানার সামনে একটি কম্পিউটার দোকান থেকে নিজের অভিযোগপত্র লিখিয়ে নেন তিনি। এরপর অভিযোগপত্র হাতে নিয়ে থানার মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশের সময় হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরে পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আবু তাহের অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে আবু তাহেরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। শনিবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

এদিকে বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম। রোববার বেলা ১১টার দিকে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘আমি মাদক কারবারি বা মাদকসেবী নই, আমি একজন প্রবাসী। ছুটিতে দেশে এসেছি। কয়েক দিন পরই চলে যাব। বাবাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করার প্রশ্নই ওঠে না।’

শহিদুলের দাবি, তার বাবা কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শনিবার সকালে বাবা দা দিয়ে তাকে কোপ দেন। এরপর কী করবেন বুঝতে না পেরে তার বাবা থানায় চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তবে স্থানীয় এক প্রতিবেশী দাবি করেছেন, শহিদুল দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে ছিলেন এবং প্রায় আড়াই মাস আগে ছুটিতে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর মাদক সেবন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা চাওয়া নিয়ে তার সঙ্গে পরিবারের বিরোধ তৈরি হয় বলে জানান ওই প্রতিবেশী। এ নিয়ে আবু তাহের ছেলেকে শাসন করতেন এবং একপর্যায়ে শহিদুল তাকে মারধর করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে স্থানীয় ওই প্রতিবেশীর এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে আবু তাহেরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD