Logo

ফাঁসি ছাড়া কোনো রায় মেনে নেব না: আছিয়ার মা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মাগুরা
২৫ আগস্ট, ২০২৬, ২০:২৫
ফাঁসি ছাড়া কোনো রায় মেনে নেব না: আছিয়ার মা
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় আবারও পিছিয়ে গেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে আছিয়ার মা মোছা. আয়েশা বেগম বলেছেন, আসামির ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায় তিনি মেনে নেবেন না।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হাইকোর্টে রায় ঘোষণার তারিখ পেছানোর পর স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি আসামিদের ফাঁসি চাই। ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায় মেনে নেব না। কিন্তু আজ না কাল করে দিন পার করছে।’

আছিয়ার মা আরও বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে মামলাটি চলছে। তাঁর অভিযোগ, আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারছেন না। এ কারণে বিচারপ্রক্রিয়া বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার তো সহযোগিতা করার মানুষ নেই। এই কারণে আমার সঠিক বিচার হচ্ছে না। আদালত যদি ফাঁসির রায় না দিতে পারে, তাহলে আসামিদের ছেড়ে দিক।’

বিজ্ঞাপন

আবারও পিছিয়েছে রায়

মঙ্গলবার হাইকোর্টে হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রায় ঘোষণার নতুন তারিখ আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্ধারণ করেছেন।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

রায় পেছানোর আবেদন জানিয়ে আদালতের কার্যক্রমের শুরুতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক বলেন, ‘এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করেছেন। তিনি দেশের বাইরে আছেন। এ কারণে আমরা সময় চাচ্ছি।’

পরে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী সোমবার রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।

আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

বিজ্ঞাপন

যেভাবে আলোচনায় আসে আছিয়া হত্যা মামলা

মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় গত বছরের ৫ মার্চ রাতে আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়। রমজানের ছুটিতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশুটি এই নির্মমতার শিকার হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন এবং ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছিল।

পরবর্তীতে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

খালাস পাওয়া তিন আসামি হলেন—আছিয়ার বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে আইন অনুযায়ী তা অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলার নথি গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর ৮ জুন তা হাইকোর্টে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে।

এখন হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের জন্য আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD