Logo

জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরীর পিএসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:৪৮
জামায়াত এমপি শাহজাহান চৌধুরীর পিএসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন, তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে। লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন রবিবার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন।

বিজ্ঞাপন

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় আরমান উদ্দিনের পাশাপাশি তার ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭), লোহাগাড়ার শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদীর লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে চারতলা একটি ভবন রয়েছে। ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে নিজের কেনা জমিতে ভবনটি নির্মাণ করেন তিনি। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিন বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভিন্ন এলাকা থেকে এসে তাদের এলাকায় বসবাস করার কারণেও চাঁদা দিতে হবে বলে অভিযুক্তরা দাবি করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক ২টার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীর কাছে ফের ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঘর দখলের হুমকি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই রাতেই অভিযুক্তরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে ১২টি তিন-পাটের স্টিলের আলমারি, তিনটি দুই-পার্টের আলমারি, দুটি দুই দরজার আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।

এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দোকানের একটি ক্যাশ টেবিলও নিয়ে যাওয়া হয়, যার ভেতরে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভবনের ওপরের তলার ভাড়াটিয়াদের কাছেও গিয়ে ভবিষ্যতে যেন বাসা তাদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়, সে বিষয়ে বলা হয়। ঘটনার সময় বাদী দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফিরে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

পরে গত ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বৈঠকের কথা বলে অভিযুক্তরা বাদীর ভবনে বসেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীকে বলেন, তার এলাকায় বসবাস করতে হলে তাদের কথামতো চলতে হবে। এ সময় আদিল চাঁদা না দিলে বাদীকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল বাদীকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বাদী শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনার পর বাদী লোহাগাড়া থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলেও যায়। তবে পরে মামলা গ্রহণ না করায় আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন তিনি।

বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় মামলার বিষয়ে আরমান উদ্দিনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মামলার নথিতে উঠে আসা অভিযোগের বাইরে, আরমান উদ্দিনকে ঘিরে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয় করতেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের আগস্টের শেষ দিকে লোহাগাড়ার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে অপহরণ, আটকে রেখে মারধর এবং বড় অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগও আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠে। পরে ওই ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম নগরে সংবাদ সম্মেলন করেন।

গত মে মাসে টংকাবতী খাল খননের নামে বালি উত্তোলনের সুযোগ করে দিতে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি ডিও লেটার ব্যবস্থার অভিযোগও আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠে।

এরপর গত ১৮ আগস্ট তার একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কথোপকথনে বালু ব্যবসা চালু রাখতে স্থানীয় থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করার বিষয় উঠে আসে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বালু ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে সমঝোতার কথাও ওই ফোনালাপে ছিল বলে দাবি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

একই ফোনালাপে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লোহাগাড়ায় এলে পায়ে গুলি করার হুমকির কথাও উঠে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরমান উদ্দিন ওই হুমকির প্রতিবাদ না করে সংসদ সদস্যকে এলাকায় আসতে নিষেধ করার ইঙ্গিত দেন এবং নিজেকে এলাকার নিয়ন্ত্রক হিসেবে উপস্থাপন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD