Logo

শিক্ষকতা থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রা-সাথোয়াই মারমা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ি
২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:০০
শিক্ষকতা থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রা-সাথোয়াই মারমা
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গঠিত হয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। ১৫ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শ্রেণিকক্ষ থেকে উঠে আসা সংগঠক ও সমাজকর্মী ম্রা-সাথোয়াই মারমা।

বিজ্ঞাপন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রায় ১৮ মাস এবং বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ছয় মাস পর পুনর্গঠিত হয়েছে তিন পার্বত্য জেলার পার্বত্য জেলা পরিষদ। অতীতে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নানা অভিযোগের কারণে পাহাড়ের ‘মিনি পার্লামেন্ট’ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার কারণ হয়ে উঠেছিল। নতুন পরিষদকে ঘিরে তাই পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে।

খাগড়াছড়ি শহরের মাস্টারপাড়ার সম্ভ্রান্ত কৃষক মারমা পরিবারের সন্তান ম্রা-সাথোয়াই মারমা ছয় ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। শৈশব থেকেই শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন লালন করতেন তিনি। কর্মজীবনের শুরুতে খাগড়াছড়ি সদর কৃষি গবেষণা জুনিয়র স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারি ব্যবসায় যুক্ত হন এবং উপজাতীয় ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৯ সালে খাগড়াছড়িতে স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন এবং চাকরিতে যোগ দেন।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে শান্তি চুক্তির পর খাগড়াছড়ি স্থানীয় সরকার পরিষদের নাম পরিবর্তন করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ করা হয়। এই পরিষদেই হিসাবরক্ষক হিসেবে তিন দশকেরও বেশি সময় সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন ম্রা-সাথোয়াই মারমা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চাকরিজীবনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সংগঠনটির স্থায়ী প্রতিষ্ঠাতা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এছাড়া মারমা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রেখেছেন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের খাগড়াছড়ি জেলার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সমাজসেবক, সংগঠক, উদ্যোক্তা ও ধর্মানুরাগী হিসেবে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড খাগড়াছড়ির মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ম্রা-সাথোয়াই মারমা বলেন, “আমার এই অবসর জীবনে আর তেমন চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। জীবনে অনেক কিছু করেছি, দেখেছি এবং পেয়েছি। এখন মহান সৃষ্টিকর্তা, বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং খাগড়াছড়ি জেলার মাননীয় সংসদ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাকে খাগড়াছড়িবাসীর সেবা করার গুরুদায়িত্ব ও সুযোগ দেওয়ায় এবং আমার ওপর আস্থা রাখায় আমি কৃতজ্ঞ।”

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নানা ঝুঁকি, সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পর্যটন, সামাজিক কাঠামো ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে কাজ করতে চান। জেলার সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ম্রা-সাথোয়াই মারমা পাহাড়ি-বাঙালি সব জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির মাধ্যমে জেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা, সমর্থন ও আশীর্বাদ কামনা করেন।

তার দীর্ঘ কর্মজীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালে দেখা যায়, শিক্ষকতা দিয়ে শুরু করে প্রশাসনিক দায়িত্ব, সামাজিক নেতৃত্ব এবং শেষ পর্যন্ত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সংগঠক হিসেবে ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা।

নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD