তারাকান্দায় ফিশারি ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকির অভিযোগ

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এক ফিশারি ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, মারধর, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ফিশারিতে বিষ প্রয়োগ এবং মামলা করলে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার গালাগাঁও ইউনিয়নের মূলাবাড়ী এলাকায় গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফিশারি ব্যবসায়ী মো. আল আমিন সরকার (৩১) তারাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন—মূলাবাড়ী এলাকার মো. আক্কাস আলী ওরফে আকাশ মিয়া (৫২), তাওহিদ হোসেন রবিন (৩০), নাজিম উদ্দীন (৫২), গোলাম মোস্তফা (৩৫), ফজলুল হক (৩২), অন্তর মিয়া (২২), সাইদুল ইসলাম ওরফে তুলা মিয়া (৪৬) ও ইউনুছ আলী সরকার (৫৮)।
থানায় দেওয়া অভিযোগে আল আমিন সরকার উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। এর আগে ফিশারিতে বিষ প্রয়োগসহ বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে অভিযুক্তরা দা, লোহার রড ও বাঁশসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিশারি এলাকায় প্রবেশ করেন।
বিজ্ঞাপন
এ সময় তারা দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য আল আমিনকে চাপ দিতে থাকেন এবং গালিগালাজ ও হুমকি দেন। বাদীর দাবি, তিনি প্রতিবাদ করলে ৩ নম্বর অভিযুক্ত নাজিম উদ্দীনের হুকুম ও প্ররোচনায় অন্যরা তাকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হন। পরে তার কাছ থেকে প্রায় ১৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি ইনফিনিক্স মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ফিশারির ঘর ভাঙচুর, লুটপাট অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার পর অভিযুক্তরা ফিশারির পাশে থাকা টিনের ঘরে ভাঙচুর চালান। সেখান থেকে ৩৫ বস্তা মাছের খাদ্য, যার আনুমানিক মূল্য ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা; একটি মাছের অক্সিজেন সিলিন্ডার, মূল্য প্রায় ১৮ হাজার টাকা; একটি সিলিং ফ্যান, মূল্য প্রায় ৩ হাজার টাকা এবং ২৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের দুই-হর্সপাওয়ার মোটর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের টিনের ঘরও ভাঙচুর করে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন আল আমিন। ‘মামলা করলে খুন করে লাশ গুম’ ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মামলা করলে তাকে খুন করে লাশ গুম করা এবং ফিশারিতে বিষ প্রয়োগের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হওয়ায় থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন আল আমিন। সরকারি চাকরিজীবী হয়েও অভিযোগে কেন? অভিযোগে নাম থাকা তাওহিদ হোসেন রবিনকে একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত। রবিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে ময়মনসিংহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে। এমন একজন সরকারি চাকরিজীবীর বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—সরকারি দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা কীভাবে এমন ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগের মুখে পড়লেন? এই বিষয়ে রবিনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
আকাশ মিয়াকে ঘিরে স্থানীয়দের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে, তাছাড়া সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে, ফেসবুকে বিভিন্ন গুজব প্রচারের অভিযোগ রয়েছে আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
তারপরও অভিযোগে থাকা আকাশ মিয়াকে নিয়েও স্থানীয় কয়েকজনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষ। তাদের অভিযোগ, নিজের বাগানের অকেজো গাছ কাটার মতো ঘটনায়ও গ্রামের সাধারণ মানুষকে দায়ী করে মামলা দেওয়া এবং সেই মামলার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। ‘ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন’—তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই আতিক জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মামলা চলমান থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে এ ঘটনার সঙ্গে দুপক্ষেরই সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারণে আরও বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। ‘মাছ মেরে আর্থিক ক্ষতি করা অপরাধ’ ঘটনার বিষয়ে তারাকান্দা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরজিৎ পারিয়ালের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির মাছ মেরে তাকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিরোধের জেরে ফিশারি কিংবা পুকুরের মাছ মেরে ফেলা কোনোভাবেই সমস্যার সমাধান নয়। এ ধরনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার আল আমিন সরকারের দাবি, ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।








