জেলা পরিষদে বোমা হামলার হুমকি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ ভবন বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও স্থানীয় এক ঠিকাদারের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জেলা পরিষদ ভবনে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে—এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শামীমা খন্দকারের বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, বিল পরিশোধসংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় ঠিকাদার ও বিএনপি নেতা তোফায়েল আহমদ তুয়েল তাঁকে এবং জেলা পরিষদকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন।
সিইও শামীমা খন্দকার জানান, জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার আগের সময়ে ঠিকাদার তোফায়েল আহমদ তুয়েল ওই হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এ ঘটনায় তখন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি কেন—এমন প্রশ্নের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য না করে প্রতিবেদককে সরাসরি তাঁর কার্যালয়ে এসে কথা বলার অনুরোধ করেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার তোফায়েল আহমদ তুয়েল। তিনি বলেন, আমি এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। জেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে খোঁজ নিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
তিনি অভিযোগটিকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বলেও দাবি করেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, জেলা পরিষদ একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির যে কথা প্রচার করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে বোমা হামলার হুমকির অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসক ও সিইওর বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
এ ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কোনো হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না এবং অভিযোগের পেছনে কী ধরনের বিরোধ কাজ করেছে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








