Logo

উৎপাদন শুরুর দুই দিনেই ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
জামালপুর
৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:০৬
উৎপাদন শুরুর দুই দিনেই ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফেরার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই আবারও বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সোমবার (৬ অক্টোবর) গভীর রাতে যমুনা সার কারখানায় পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু বুধবার রাতে বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আবারও উৎপাদন বন্ধ করতে হয়।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণেই বয়লার প্ল্যান্টে এ ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে কারখানার অন্যান্য যন্ত্রাংশ সচল রয়েছে। বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব হলে দ্রুত উৎপাদনে ফেরার আশা করা হচ্ছে।

উৎপাদন শুরুর পর দুই দিনে মোট ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হয়েছে। যমুনা সার কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। ত্রুটি সারিয়ে ২ দিনের মধ্যে উৎপাদন শুরু হতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে গ্যাসের চাপ বাড়ায় উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে সোমবার ভোররাতে কারখানা কর্তৃপক্ষ ফের ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করে। কিন্তু দুই দিনের মধ্যেই বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটিতে সেই কার্যক্রম থেমে গেল।

দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে যমুনা সার কারখানার। বিসিআইসির তালিকাভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে কারখানাটি জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে।

বিজ্ঞাপন

কারখানাটি স্বাভাবিকভাবে চালু থাকলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন করা সম্ভব। এতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লাভ হয়। অন্যদিকে, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও প্ল্যান্ট সচল রাখাসহ অন্যান্য খরচের বাইরে শুধু গ্যাস বিল বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD