এমপি মাসুদ সাঈদীর হালাল রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করল প্রশাসন

কুয়াকাটায় প্রস্তাবিত ‘ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকায় মঙ্গলবার দুপুরে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী।
বিজ্ঞাপন
নির্মাণস্থলে নিষেধাজ্ঞাসংবলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমুদ্রতীরবর্তী এই প্রকল্পটি দেশের প্রথম শরিয়াহসম্মত বা ‘হালাল’ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারকা হোটেল ও রিসোর্ট, কটেজ, সুইমিং পুল, জিম এবং জামে মসজিদ নির্মাণের কথা রয়েছে।
প্রকল্পটির প্রচারে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের সুযোগও তুলে ধরা হয়েছে। সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা দিয়ে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাবের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় বিনা মূল্যে অবস্থান এবং মুনাফার অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রচার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে প্রকল্পটির ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিস্তারিত শর্ত, সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ কিংবা মুনাফা বণ্টনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটির প্রচার করেছেন সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিজ্ঞাপন
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানান, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ইস্তানবুল প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের জন্য নির্ধারিত এলাকার মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানের প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমি ঘিরে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়ন এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে প্রকল্পের জমির মালিকানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের বাসিন্দা উমাচ্যান জমিটির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটির মালিক ছিলেন তাঁর দাদা চিথাও এবং অপর ব্যক্তি নাথোও। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা কিংবা জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন ছিল না। এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রয়োজনীয় অনুমোদন, প্রস্তাবিত রেলপথের অবস্থান এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ—সব মিলিয়ে কুয়াকাটার এই পর্যটন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশের অর্থ প্রকল্পটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়; অনুমোদন ও অন্যান্য আইনি বিষয় নিষ্পত্তির পরবর্তী পরিস্থিতিই এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।








