টুপটুপ রিসোর্টে আগুন: পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় দুই বোন

কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকার টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো দুই বোন লায়লা জাহান নাবিলা ও ইসরাত জাহান মালিহাকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বাউসাইদ গ্রামে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
বিজ্ঞাপন
দুই বোনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো প্রিয়জনদের দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন শত শত মানুষ। কান্না আর শোকে পুরো এলাকায় নেমে আসে বিষাদের ছায়া।
নিহত নাবিলা ও মালিহা নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের বাউসাইদ গ্রামের মামুনুর রশিদের মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটি কিংবা অবসর পেলেই দুই বোন গ্রামে বেড়াতে আসতেন। কিন্তু এবার তারা ফিরেছেন নিথর দেহে।
গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের ছয় সদস্য প্রাণ হারান। নিহত অন্য চারজন হলেন দুই বোনের খালাতো বোন আলভি, মামী ফারিয়া, মামাতো ভাই ফাইজান এবং মামা নাফিস।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
•
•
বিজ্ঞাপন
•
দীর্ঘ ১০ দিন পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহগুলো শনাক্ত করে। পরে মঙ্গলবার স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। বুধবার সকালে নাবিলা ও মালিহার মরদেহ পৌঁছায় তাদের গ্রামের বাড়িতে।
সকাল সাড়ে ১১টায় বাউসাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দুই বোনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় বাউসাইদ কেন্দ্রীয় কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় তাদের।
বিজ্ঞাপন
দুই বোনকে শেষবারের মতো দেখতে গ্রামবাসীর ঢল নামে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় দুই বোনকে হারিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
এদিকে, এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে না হয়।








