মধুখালীতে রোপা আমনের চারা কিনতে হাটে কৃষকের ভিড়

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন হাটে রোপা আমনের চারা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া ও সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মৌসুমে রোপা আমনের আবাদ বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে এবার রোপা আমন আবাদ হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার সবচেয়ে বড় দুটি বাজার মধুখালী সদর ও কামারখালী হাটে বর্তমানে ধানের চারা কেনাবেচায় ব্যস্ততা বেড়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) মধুখালী হাটে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কৃষকদের পছন্দের জাত ও মান অনুযায়ী চারা কিনতে দেখা গেছে।
হাটে এক বোঝা রোপা আমনের চারা ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতি বোঝা চারার জন্য ২০ থেকে ৩০ টাকা করে খাজনা নেওয়া হচ্ছে।
মধুখালী হাটের চারা বিক্রেতা সামাদ শেখ বলেন, বর্তমানে হাটে বিভিন্ন জাতের ধানের চারার সরবরাহ বেশ ভালো। কৃষকেরাও নিজেদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী চারা কিনছেন। মৌসুম থাকায় প্রতিদিনই হাটে চারা বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা।
বিজ্ঞাপন
বাজারের খাজনা আদায়কারী মো. ইমন শেখ বলেন, হাটে চারার আমদানি ভালো রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারা কেনাবেচা চলছে। কৃষকেরা বিশেষ করে উন্নতমানের ও সতেজ চারার প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহাবুব ইলাহী জানান, রোপা আমন চাষে ব্রি-৮৭, ব্রি-৩৭, ব্রি-৭৫ ও বিনা-৭সহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়। সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এসব জাতের ধানের চারা রোপণ করা হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আগাম ভাসমান চারাসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে ইতোমধ্যে উপজেলার প্রায় ৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আগস্টের শেষ নাগাদই এ পরিমাণ জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মধুখালী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন মিলিয়ে মোট ৮ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে এ উপজেলায় রোপা আমন আবাদ হয়েছিল প্রায় ৮ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে।
অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার শুরুতেই লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১০০ হেক্টর বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরজুড়ে চারা রোপণের সুযোগ থাকায় এবং বর্তমানে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ।
বিজ্ঞাপন
কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহাবুব ইলাহী আরও জানান, ভাদ্র মাসজুড়েই কৃষকেরা রোপা আমনের চারা জমিতে রোপণ করতে পারবেন। বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা তৈরি হওয়ায় চারা রোপণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে যারা এখনো চারা রোপণ করেননি, তারাও এ সময়ের মধ্যে আবাদ সম্পন্ন করতে পারবেন।
এদিকে হাটে চারা কিনতে আসা কৃষকেরা জানান, বৃষ্টির কারণে অনেক জমিই এখন চাষাবাদের উপযোগী হয়েছে। তাই দ্রুত চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করতে চান তারা। ভালো মানের চারা পাওয়া গেলে ফলনও ভালো হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।
কৃষকদের এমন আগ্রহ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে মধুখালীতে রোপা আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এতে আমন উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কৃষকেরাও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করছেন।








