Logo

মধুখালীতে টানা বৃষ্টিতে মরিচের ব্যাপক ক্ষতি, বিপাকে কৃষক

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
মধুখালী, ফরিদপুর
১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৩
মধুখালীতে টানা বৃষ্টিতে মরিচের ব্যাপক ক্ষতি, বিপাকে কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের মধুখালীতে টানা বৃষ্টিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিপর্যয়। অতিবৃষ্টির কারণে মাঠের অধিকাংশ মরিচগাছ পচে ও মারা যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

বিজ্ঞাপন

কৃষিপ্রধান উপজেলা হিসেবে পরিচিত মধুখালীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে মাঠের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচগাছ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের মরিচচাষিরা।

মরিচের পাশাপাশি কম খরচে সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়ার চাষও করেন এখানকার কৃষকরা। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে কুমড়ার চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে মরিচ ও সাথি ফসল—দুই দিক থেকেই লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।

রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের কৃষক মো. টুকু মণ্ডল জানান, এ বছর তিনি ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে সব গাছ মারা গেছে। এখন মরিচের ক্ষেত তুলে সেখানে ধানের আবাদ করবেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

টুকু মণ্ডল বলেন, চাষে যে পরিমাণ খরচ করেছি, তার অর্ধেকও তুলতে পারিনি। সরকার যদি ক্ষতিপূরণ দেয়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।

আরেক কৃষক মো. খসরু মিয়া বলেন, সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেড়েছে। তার ওপর বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কৃষক মো. শফিক শেখ বলেন, মরিচগাছ আর বাঁচবে না। তাই গাছ তুলে এখন ধানের আবাদ করাই একমাত্র উপায়।

কৃষক মো. লালচান মোল্লা বলেন, সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারব।

এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব ইলাহী বলেন, মধুখালীতে এ বছর ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক ক্ষেতের মরিচগাছ মারা গেছে এবং কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ৫০ শতাংশের বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD