Logo

কুলাউড়ায় চা বাগানের পতিত জমিতে ড্রাগন চাষে নতুন সম্ভাবনা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:৪৫
কুলাউড়ায় চা বাগানের পতিত জমিতে ড্রাগন চাষে নতুন সম্ভাবনা
ছবি: প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে ড্রাগন ফল চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে সিরাজনগর চা বাগান কর্তৃপক্ষ। একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা জমিতে এখন সারি সারি ড্রাগন গাছ। ফলন ও বিক্রি বাড়ায় এ খাত থেকে নতুন আয়ের প্রত্যাশা করছেন বাগান কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করে সিরাজনগর চা বাগান। বর্তমানে বাগানটিতে প্রায় ১৫ হাজার ড্রাগন গাছ রয়েছে। এসব গাছে থাই রেড, জাম্বো রেড ও হোয়াইট পিংক—এই তিন জাতের ড্রাগন ফল উৎপাদন করা হচ্ছে।

চাষ শুরুর দ্বিতীয় বছরেই ফলন পাওয়া শুরু হয়। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন ও বিক্রি বাড়তে থাকায় আগামী দিনে এ খাত থেকে আরও ভালো আয়ের আশা করছেন তারা।

বাগান কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ এবং বিদেশে ড্রাগন ফল পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিরাজনগর চা বাগানের ম্যানেজার শামীম ইসলাম বলেন, চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমিকে উৎপাদনমুখী করতেই ড্রাগন চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎপাদনে ক্ষতিকর কীটনাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহার না করে জৈব পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ড্রাগন চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ড্রাগন চাষের ফলে বাগানের শ্রমিকদের জন্যও অতিরিক্ত কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বাগানে উৎপাদিত ফল শ্রমিকদের নিজেদের চাহিদা পূরণেও সরবরাহ করা হচ্ছে।

উৎপাদনের পাশাপাশি সিরাজনগর চা বাগানের ড্রাগন বাগানটি দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসছেন ড্রাগন গাছ, ফলের বৈচিত্র্য এবং বাগানের প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখতে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসীম উদ্দিন বলেন, চা চাষের জন্য অনুপযোগী জমিকে বিকল্প কৃষিতে ব্যবহার করা গেলে বাগানের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে পুষ্টির চাহিদা পূরণেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, কুলাউড়ার স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমনকি বিদেশেও ড্রাগন ফল সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চা চাষের অনুপযোগী পতিত জমি পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা গেলে ড্রাগন ফলের পাশাপাশি জমির উপযোগ অনুযায়ী অন্যান্য ফসলও উৎপাদন করা সম্ভব। এতে একদিকে পতিত জমি উৎপাদনমুখী হবে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

বিজ্ঞাপন

চা চাষের সম্ভাবনা না থাকা জমিতে ড্রাগন ফলের এই উদ্যোগ তাই নতুন সম্ভাবনার দিশা দেখাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে দেশের অন্যান্য চা বাগানের পতিত জমিকেও এভাবে উৎপাদনমুখী করা সম্ভব।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD