Logo

শরতের কাশফুলে সেজেছে শ্রীমঙ্গল, প্রকৃতির টানে দর্শনার্থীর ভিড়

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩
শরতের কাশফুলে সেজেছে শ্রীমঙ্গল, প্রকৃতির টানে দর্শনার্থীর ভিড়
ছবি: সংগৃহীত

শরৎ এলেই বাংলার প্রকৃতিতে দেখা মেলে সাদা কাশফুলের মনকাড়া উপস্থিতি। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল যেন ঋতুর আগমনী বার্তা নিয়ে আসে। এবার সেই চিরচেনা শরতের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। শহরের আশপাশের নদী ও ছড়ার তীরবর্তী কাশবন এখন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিদিনই পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের নিয়ে এসব এলাকায় ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী। কাশফুলের শুভ্রতা, সবুজের সমারোহ এবং ছড়ার নির্মল পরিবেশ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে মনোরম এক প্রাকৃতিক আবহ। শহুরে ব্যস্ততা থেকে কিছুটা সময় বের করে প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে অনেকেই ছুটে আসছেন এসব কাশবনে।

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে ভানুগাছ সড়কের বেলতলী এলাকায় বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) পাশেই ভুরভুরিয়া ছড়ার দুই তীরে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে বিস্তৃত কাশবন। শরতের শুরু থেকেই এখানকার বালুচরজুড়ে ফুটতে শুরু করেছে অসংখ্য কাশফুল।

সবুজ চা-বাগানের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি ছড়ার দুই পাশে সাদা কাশফুলের সারি প্রকৃতিতে এনে দিয়েছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য। বাতাসে কাশফুলের দোল খাওয়ার দৃশ্য দূর থেকেই দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। ছড়ার বালুচরে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এই কাশবন এখন শ্রীমঙ্গলের পর্যটন আকর্ষণের তালিকায় নতুন সংযোজন হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কাশবনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশের ব্যস্ততা দেখা যায় ছবি তোলায়। সাদা কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে শরতের এই মুহূর্তকে স্মৃতিতে ধরে রাখছেন তারা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ স্বামী-স্ত্রী, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে এসে এখানকার নির্মল পরিবেশ উপভোগ করছেন।

দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে কাশবনের শান্ত পরিবেশ তাদের ভালো লাগছে। শরতের সাদা ফুল, সবুজ প্রকৃতি আর খোলা আকাশের নিচে কিছুটা সময় কাটানো তাদের মনকে প্রশান্ত করছে।

বিজ্ঞাপন

একজন দর্শনার্থী বলেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে এখানকার পরিবেশ বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে কাশফুলের সৌন্দর্য এবং চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ মনকে সহজেই আকৃষ্ট করে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এসকে দাস সুমন বলেন, বিটিআরআই ও এর আশপাশে গড়ে ওঠা কাশফুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য শ্রীমঙ্গলের পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে।

তার মতে, পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি সরাসরি জড়িত। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগমন বাড়লে হোটেল, রিসোর্টসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি মৌসুমি কাশবন পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করছে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রচারের মাধ্যমে এ ধরনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে পর্যটনের অংশ হিসেবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, শ্রীমঙ্গলে আগত সব পর্যটককে স্বাগত জানানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটনের নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হওয়া কাশবন ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসছেন। শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে নতুন এই আকর্ষণ পর্যটকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকৃতির নিজস্ব সৌন্দর্যে গড়ে ওঠা ভুরভুরিয়া ছড়ার তীরের কাশবন তাই এখন শুধু শরতের সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, শ্রীমঙ্গলের পর্যটন সম্ভাবনাতেও যোগ করছে নতুন মাত্রা। ঋতু বদলের সঙ্গে কাশফুল ঝরে গেলেও এর সৌন্দর্যের স্মৃতি দর্শনার্থীদের মনে থেকে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD