বর্ষার জলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে আড়িয়ল বিল, মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা

বর্ষার পানিতে টইটম্বুর হয়ে নতুন রূপে সেজেছে দেশের মধ্যাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন জলাভূমি আড়িয়ল বিল। বিস্তীর্ণ জলরাশি, শাপলার সমারোহ, নানা প্রজাতির জলচর পাখি এবং নৌভ্রমণের মনোমুগ্ধকর পরিবেশে এখন মুখর হয়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী বিল। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় করছেন এখানে।
বিজ্ঞাপন
শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত আড়িয়ল বিল বর্ষা মৌসুমে রূপ নেয় বিশাল জলরাশিতে। বিলজুড়ে ফুটে থাকা শাপলা, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোট-বড় ডাঙ্গা ও দীঘি এবং জেলেদের নানা কৌশলে মাছ ধরার দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
বিলের বিভিন্ন অংশে বালিহাঁস, পানকৌড়িসহ নানা প্রজাতির জলচর পাখির বিচরণ চোখে পড়ে। পানিতে ডুব দিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্যও মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। পাশাপাশি স্থানীয়রা নৌকাভর্তি করে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো শাপলা সংগ্রহ করছেন, যা বিলপাড়েই বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আড়িয়ল বিল ঘুরে দেখার জন্য শ্রীনগর উপজেলার গাদিঘাট বাজার, দেউলভোগ বাজার, আলমপুর বাজার ও বাড়ৈখালী বাজারসংলগ্ন ঘাট থেকে ট্রলার, কোষা নৌকা, পালের নৌকা ও অন্যান্য নৌযান ভাড়ায় পাওয়া যাচ্ছে। এসব নৌযানে চড়ে বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে আড়িয়ল বিল ধান ও বিভিন্ন সবজির আবাদে মুখর থাকলেও বর্ষাকালে পুরো বিল প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। এ সময় পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মাঝি-মাল্লা, ট্রলার ও নৌকার মালিকদেরও আয় বাড়ে।
স্থানীয় কয়েকজন মাঝি জানান, সারাদিনের জন্য একটি ট্রলার ভাড়া আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঘণ্টাভিত্তিক চুক্তিতেও নৌকা ভাড়া দেওয়া হয়। শুক্রবার ও শনিবার পর্যটকের চাপ বেশি থাকায় ভাড়াও কিছুটা বেড়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মো. অমিত, জায়ান, তৌহা, আরমান, উজ্জ্বল ও জয় জানান, গাদিঘাট এলাকা থেকে ট্রলার ভাড়া নিয়ে দিনব্যাপী আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেছেন। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করেছে। সুযোগ পেলে আবারও আড়িয়ল বিলে নৌভ্রমণে আসবেন বলে জানান তারা।








