Logo

মৌলভীবাজারে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি, বাড়ছে দুর্ভোগ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার
১১ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৪১
মৌলভীবাজারে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি, বাড়ছে দুর্ভোগ
ছবি: সংগৃহীত

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মৌলভীবাজারের অন্তত চারটি উপজেলা ভয়াবহ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে প্রায় ২ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের কারণে সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাজনগর ও সদর উপজেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ। বন্যার কারণে জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অধিকাংশ দুর্গত পরিবারের কাছে এখনো পর্যাপ্ত খাবার বা প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছায়নি। হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার কিছু খাদ্য সহায়তা পেলেও বেশিরভাগ মানুষ এখনও ত্রাণের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এছাড়া জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ও রহিমপুর এবং রাজনগর উপজেলার টেংরা, কামারচাক ও পাঁচগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে অনেক বাড়িঘর ও আঙিনায় এখনো পানি রয়েছে। বেশিরভাগ দুর্গত এলাকায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে ত্রাণ পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৫টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি, ৩৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ পকেট শুকনো খাবার, ৯০ টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুর রহমান, হাওয়া বেগম ও সইফুল মিয়া বলেন, ৩ দিন ধরে আমরা পানিবন্দি। অনেকের ঘরে হাঁটুসমান পানি। এখনো সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো খাবার পাইনি। যাদের ঘরে পানি উঠেছে তারা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার কেউ তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, জেলার নদ-নদীর পানি গতকাল রাত থেকে কমতে শুরু করেছে। আশা করি পানি দ্রুত নেমে যাবে।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ইতোমধ্যে শুকনো খাবার, চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন দেখা দিলে তাদের সহায়তা নিয়ে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD