Logo

সাত উপজেলায় সেনা মোতায়েন, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই, ২০২৬, ১২:০০
সাত উপজেলায় সেনা মোতায়েন, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার অন্তত চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা, দুর্গত মানুষকে উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় জেলার সাতটি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জেলা প্রশাসনের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার কার্যক্রমের আওতায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা বন্যাদুর্গত এলাকায় উদ্ধার, অনুসন্ধান এবং ত্রাণ বিতরণে অংশ নিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রবল বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা। এসব এলাকায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি, সড়ক এবং বিভিন্ন স্থাপনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় চার লাখ মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল প্রয়োজনীয় নৌযান, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং জনবল নিয়ে দ্রুত দুর্গত এলাকায় পৌঁছে অভিযান শুরু করেছে। পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, খাদ্য ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি চালানোর কাজ চলছে।

এদিকে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে বোয়ালখালী, হাটহাজারী এবং ফটিকছড়ি উপজেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এসব এলাকায়ও বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত মানুষের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এসব ক্যাম্প থেকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণ এবং সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সেনাবাহিনীর সদস্যরা পানিবন্দি এলাকায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর, জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বন্যার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে, আবার কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাননি। ফলে প্রয়োজনীয় মালামাল, খাদ্য এবং গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়াও অনেকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়াবিদদের মতে, পাহাড়ি ঢল এবং অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে নিম্নাঞ্চলে পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জনগণের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতেও দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD