Logo

ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের বড় সুখবর দিল সৌদি আরব

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৬
ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের বড় সুখবর দিল সৌদি আরব
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ সুবিধা চালু করেছে সৌদি আরব। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় নির্দিষ্ট ট্রাভেল প্যাকেজের মাধ্যমে আবেদনকারীরা সহজেই ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা (ই-ভিসা) সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে আলাদাভাবে ভিসার আবেদন করা বা সৌদি দূতাবাসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। ফলে দেশটিতে পর্যটন ভ্রমণ আগের তুলনায় আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সৌদি সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয় পরীক্ষামূলকভাবে এই নতুন সমন্বিত ভ্রমণ কর্মসূচি চালু করেছে। প্রাথমিক ধাপে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া এবং মেক্সিকোর নাগরিকরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্যও এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, একটি বুকিংয়ের মাধ্যমেই পুরো ভ্রমণের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যাবে। এতে রিটার্ন বিমান টিকিট, অনুমোদিত পর্যটন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ট্যুরিস্ট ভিসা একই প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে আলাদা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ বা পৃথকভাবে আবেদন করার ঝামেলা কমে যাবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ভ্রমণ প্যাকেজ বুকিং সম্পন্ন হওয়ার সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আবেদনকারীর ই-ভিসা ইস্যু করা হবে। এরপর ইমেইলের মাধ্যমে ভিসার কপি, ভ্রমণ বীমা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ভ্রমণসংক্রান্ত নথি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

বর্তমানে এই কর্মসূচির অধীনে দুটি অনুমোদিত ট্রাভেল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান—রিজারভাল এবং আলমোসাফ—সেবা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের আওতায় আনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নতুন এই ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ হবে তিন মাস। এটি একবার প্রবেশের (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) জন্য বৈধ থাকবে। ভিসাধারীরা সৌদি আরবে সর্বনিম্ন দুই দিন এবং সর্বোচ্চ ৮৮ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

ভ্রমণ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রথম দুই দিনের ন্যূনতম প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার সৌদি রিয়াল। এরপর অতিরিক্ত প্রতিটি দিনের জন্য আরও ১ হাজার সৌদি রিয়াল যোগ হবে। এছাড়া ভিসা ইস্যু ও ভ্রমণ বীমাসহ মোট ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০২ দশমিক ২১ সৌদি রিয়াল।

শুধু ভিসা ও আবাসনের মধ্যেই এই প্যাকেজ সীমাবদ্ধ নয়। ইচ্ছা করলে ভ্রমণকারীরা তাদের বুকিংয়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম, অনুষ্ঠান বা ইভেন্টের টিকিটের মতো অতিরিক্ত সেবাও যুক্ত করতে পারবেন। এতে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকবে।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, এই সমন্বিত ভ্রমণ প্যাকেজে মক্কা ও মদিনায় উমরাহ পালনসংক্রান্ত কোনো সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। অর্থাৎ এটি মূলত পর্যটন ভিসা হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তবে বৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের পর ভিসাধারীরা দেশটির প্রচলিত নিয়ম মেনে মক্কা, মদিনাসহ অন্যান্য শহর ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে, কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে ফ্লাইট বাতিল, আবাসন পরিবর্তন বা ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে অর্থ ফেরত কিংবা বুকিং সংশোধনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ট্রাভেল সেবা প্রদানকারীর নীতিমালা অনুসারে নিষ্পত্তি করা হবে।

সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক ও সহজলভ্য করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে এবং সেবার পরিধিও ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশসহ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সৌদি আরবে পর্যটন ভ্রমণ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় সময় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং পর্যটন খাতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD