বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ

আজ ১১ জুলাই, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এবং গণমাধ্যম দিবসটি উপলক্ষে নানা আয়োজন করেছে।
বিজ্ঞাপন
এ বছরের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’। এবারের প্রতিপাদ্যে তরুণদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অধিকার এবং উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে পারলে তা জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে দিবসটি উপলক্ষে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। তাঁদের বাণীতে জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের গুরুত্ব, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ এবং তরুণদের জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলও জনসংখ্যা, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য ও তরুণদের উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ আলোচনা, প্রতিবেদন ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিকগুলোও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) গভর্নিং কাউন্সিল বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা-সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৯০ সালে বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে প্রথমবারের মতো দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি একটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা এবং পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। পরিকল্পিত জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন অর্জন সহজ হয়।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো, নারীর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে জনসংখ্যার ঘনত্ব, নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তরুণদের শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের জনসংখ্যাকে একটি শক্তিশালী সম্পদে পরিণত করা সম্ভব হবে। আর সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, দক্ষ, সমৃদ্ধ ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।








