Logo

সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছাড়লেন আটকে পড়া ৪৬১ পর্যটক

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটি
১০ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৪
সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক ছাড়লেন আটকে পড়া ৪৬১ পর্যটক
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল এবং দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩১১ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা এসকর্টে সাজেক ত্যাগ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় বাঘাইহাট জোন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং একাধিক স্থানে ভূমিধসের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে সাজেক ভ্যালিতে অবস্থানরত মোট ৫৬১ জন পর্যটক সেখানে আটকা পড়েন।

উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রথম ধাপে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১৫০ জন পর্যটককে নিরাপদে সাজেক থেকে বের করে আনা হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩১১ জন পর্যটককে সেনাবাহিনীর এসকর্টে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাঘাইহাট জোন জানিয়েছে, এখনো প্রায় ১০০ জন পর্যটক সাজেকে অবস্থান করছেন। তাদেরও পর্যায়ক্রমে নিরাপদ উপায়ে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আবহাওয়া ও সড়ক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দ্রুত তাদের উদ্ধার সম্পন্ন করা হবে।

এর আগে টানা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাজেকে নতুন পর্যটক প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেকের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস, পাহাড়ধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর নতুন কোনো পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করতে পারেননি। তবে নিষেধাজ্ঞা জারির আগেই সেখানে অবস্থান করা শত শত পর্যটক বৈরী আবহাওয়ার কারণে আটকা পড়েন।

জানা গেছে, গত ছয় দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে এবং মাইনী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। এতে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা ও লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। একই সঙ্গে একাধিক স্থানে পাহাড়ধস এবং সড়কের মাটি ধসে পড়ায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এসব কারণে কয়েক দিন ধরে সাজেক থেকে পর্যটকদের বের করে আনা সম্ভব হয়নি। পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে সেনাবাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

বিজ্ঞাপন

উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পুরো প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও এগিয়ে এসেছেন। সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যটকদের কাছ থেকে শুধু পানি ও ইউটিলিটি বিল নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত কোনো আবাসন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না।

পাশাপাশি স্থানীয় হোটেল ও খাবারের দোকানগুলোকে স্বল্প খরচে খাবার সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আটকে পড়া পর্যটকদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়তে না হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে অবশিষ্ট পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD