Logo

সাজেকে আটকা শত শত পর্যটক, ভাড়া মওকুফ করলেন রিসোর্ট মালিকরা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটি
৮ জুলাই, ২০২৬, ১৪:০২
সাজেকে আটকা শত শত পর্যটক, ভাড়া মওকুফ করলেন রিসোর্ট মালিকরা
ছবি: সংগৃহীত

অবিরাম ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়েছেন প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আপাতত পর্যটনকেন্দ্র ছাড়তে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে আটকে পড়া পর্যটকদের কাছ থেকে কক্ষভাড়া না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় রিসোর্ট মালিকরা।

বিজ্ঞাপন

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই শত শত পর্যটক সাজেকে অবস্থান করছিলেন। ফলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তারা সেখানে আটকে পড়েছেন।

টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে খাগড়াছড়ির মাইনী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাজেকে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। একই সঙ্গে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে মাইনী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা এবং লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ ডুবে গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং কোথাও কোথাও সড়কের মাটি ধসে পড়ায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লংগদু-দীঘিনালা সড়কের মেরুং এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের নানিয়ারচরের কেঙ্গেলছড়ি এলাকাতেও সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।

সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক (যুবরাজ) জানান, বাঘাইহাট ও মাচালং এলাকার নিচু অংশে সড়কের ওপর পানি ওঠায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েছেন।

তিনি বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আটকে পড়া পর্যটকদের কাছ থেকে রিসোর্টের কক্ষভাড়া নেওয়া হবে না। শুধুমাত্র বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি সেবার ব্যয় নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় খাবারের দোকানগুলোও সীমিত খরচে পর্যটকদের খাবারের ব্যবস্থা করবে, যাতে তারা অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে না পড়েন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। পানি কমে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের মতে, বৃষ্টিপাত একইভাবে অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা এবং সড়ক ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া পাহাড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রশাসন ও স্থানীয়দের আশা, আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে এবং আটকে পড়া পর্যটকেরা নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD