Logo

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে চট্টগ্রাম, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩:৫২
টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে চট্টগ্রাম, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী
ছবি: সংগৃহীত

অবিরাম ভারী বর্ষণে কার্যত পানির নগরীতে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ সড়ক, অলিগলি, আবাসিক এলাকা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। নিচু এলাকার অসংখ্য বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিরও মুখোমুখি হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকতে দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা, যাদের অনেকেই ঘরের আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, আকমল আলী সড়ক, হাজীপাড়া, লালদিঘির পাড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়, পলিটেকনিক মোড়, গোলপাহাড় কাজিরহাটসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে, আবার অনেক স্থানে মানুষকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বাকলিয়া এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের পণ্য নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেক পরিবার শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন পার করছে। ঘরের ভেতরে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে বসবাসও কঠিন হয়ে পড়েছে।

চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিম জানান, বৃষ্টির পানি ও ড্রেনের পানি একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় টয়লেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পানি নামছে না এবং দুর্গন্ধে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তার মতে, জলাবদ্ধতার পাশাপাশি এখন স্বাস্থ্যঝুঁকিও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগ্রাবাদের বাসিন্দা রেহানা বেগম বলেন, তাদের বাড়ির নিচতলায় কোমরসমান পানি জমেছে। রান্নাঘরেও পানি ঢুকে পড়ায় চুলা জ্বালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিবারের সদস্যরা সকাল থেকে শুকনো খাবার খেয়ে সময় পার করছেন। ছোট শিশুদের নিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে একই সময়ে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য পাওয়া গেছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ধসের আশঙ্কাও রয়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে শুধু নগরজীবনই নয়, রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর পর্যটক এক্সপ্রেস নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার দুপুরে ট্রেনটি চট্টগ্রামের ষোলোশহর এলাকায় আটকে যায়। প্রায় ১১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাত ১১টার দিকে রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেনটির কক্সবাজারগামী যাত্রা বাতিলের ঘোষণা দেয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ট্রেনে থাকা প্রায় এক হাজার যাত্রী, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন, দীর্ঘ সময় স্টেশনে অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করেন। যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রেনটি আর কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ বলেন, রেললাইনের ওপর অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ ছিল না।

বিজ্ঞাপন

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব যাত্রীর ভ্রমণ বাতিল হয়েছে, তাদের টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত দেওয়া হবে।

এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে নগরবাসীকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া এবং নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD