জোয়ারের পানিতে প্লাবিত সেন্টমার্টিন, বাড়ছে দ্বীপবাসীর আতঙ্ক

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের প্রভাবে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে দ্বীপের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে এবং অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
বড় বড় ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পর্যন্ত টানা তিন দিন ধরে কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত দমকা বাতাসের কারণে বঙ্গোপসাগর আরও বেশি উত্তাল হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে বাতাসের গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ায় সমুদ্রের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপের নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়ির আঙিনা ও ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দ্বীপের বাসিন্দা আবু তালেব জানান, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা আনুমানিক চার থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত বেড়েছে। এর ফলে একের পর এক বিশাল ঢেউ দ্বীপের চারপাশে আছড়ে পড়ছে। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি জমে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সবাই নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। ফলে তাদের দৈনন্দিন আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে মাছ ধরার কার্যক্রম বন্ধ থাকলে উপকূলীয় জেলে পরিবারগুলো অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে আসা এবং সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করা হলে পুনরায় নৌযান চলাচল শুরু করা হবে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, জোয়ারের পানি ও ভারী বৃষ্টিতে দ্বীপের বহু বসতবাড়ি পানির নিচে চলে গেছে। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দ্বীপে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই মূল ভূখণ্ডে যেতে পারছেন না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বর্তমানে ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে সেন্টমার্টিন এলাকায় বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘরের বাইরে বা সমুদ্রের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
বিজ্ঞাপন
এদিকে আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় সেন্টমার্টিনে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত আবহাওয়ার উন্নতি না হলে জলাবদ্ধতা, খাদ্য সরবরাহ, যোগাযোগ ও জীবিকাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।








