Logo

সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের সংকটে দ্বীপবাসী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
৭ জুলাই, ২০২৬, ২৩:০৮
সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের সংকটে দ্বীপবাসী
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে দ্বীপের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তাল বঙ্গোপসাগরের বিশাল ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নিয়ে টানা তিন দিন ধরে কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত দমকা হাওয়ায় সাগর আরও বেশি উত্তাল হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে বাতাসের দিক পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় দ্বীপের নিচু এলাকার বহু বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষ ঘরের মধ্যেই অবস্থান করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। অপরদিকে উত্তাল সাগরের কারণে জেলেরা মাছ ধরতে যেতে না পারায় তাদের জীবিকাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব জানান, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উত্তাল সাগরের কারণে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা আগের তুলনায় আনুমানিক ৪ থেকে ৫ ফুট বেড়েছে। বড় বড় ঢেউ একের পর এক দ্বীপের চারপাশে আছড়ে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টির পানিতে দ্বীপের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ বাসিন্দা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরাও মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে দ্বীপের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সেন্টমাটিন সার্ভিস ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। সতর্ক সংকেত কেটে গেলে পুনরায় ট্রলার চলাচল শুরু হবে।

সেন্টমার্টিনের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপে অনেক বাড়িঘর ডুবে গেছে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে সেন্টমার্টিন উপকূলে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্বীপবাসীকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান ও অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD