Logo

১০ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনী-পাউবো

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
যশোর
৭ জুলাই, ২০২৬, ১৯:০৯
১০ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনী-পাউবো
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে জোরদারভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সংশ্লিষ্টদের আশা, চলমান নদী ও খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ফলে যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর, সাতক্ষীরার তালা এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, কেশবপুর পৌর এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদীর বালিয়াডাঙ্গা অংশে ভারী বৃষ্টির কারণে সদ্য খনন করা নদীতীরের বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে পড়েছে। এতে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে পড়ায় স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ধসে পড়া অংশে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের বল্লী স্থাপন এবং ডাউনশিট বসিয়ে নদীতীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষাকালে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতেই দ্রুত এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী জানান, কেশবপুর পৌর এলাকার বালিয়াডাঙ্গা অংশে প্রায় ১৩০ মিটার এলাকায় মাটির গুণগত মান দুর্বল হওয়ায় খননের পর নদীতীর ধসে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জরুরি ভিত্তিতে তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে।

তিনি জানান, প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন নদী পুনঃখনন প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বড় অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বর্ষা শুরু হওয়ায় অবশিষ্ট প্রায় ৩৭ শতাংশ কাজ আগামী শুষ্ক মৌসুমে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে কেশবপুর পৌর এলাকার অংশে নদী খননের সময় জমির মালিকানা নিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। অনেকেই নদীর ভেতরে ব্যক্তিগত মালিকানার দাবি করে কাগজপত্র উপস্থাপন করছেন, আবার কেউ কেউ নদীর মধ্যে খুঁটি স্থাপন করেছেন। এতে খননকাজ বাস্তবায়নে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান বলেন, নদী খননের মূল নকশা পরিবর্তন করা হলে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে। তাঁর মতে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নকশা অক্ষুণ্ন রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

মানবাধিকারকর্মী শামিম আক্তার মুকুল বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হরিহর নদীর প্রশস্ততা ঠিকভাবে রক্ষা না করেই খননকাজ হওয়ায় কেশবপুর ও মনিরামপুরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এবার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজের মান নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরও জানান, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ভবদহ অঞ্চলের প্রকল্পভুক্ত ছয়টি নদীর সঙ্গে সংযুক্ত সব খালের মুখ উন্মুক্ত করা হবে। খালগুলোর মধ্যে থাকা সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণের মাধ্যমে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, হরিহর নদীর অধিকাংশ অংশে পুনঃখনন সম্পন্ন হওয়ায় চলতি বছর কেশবপুর, মনিরামপুর ও তালা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতার দীর্ঘদিনের অভিশাপ থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নদী পুনঃখননের সময় সরকারি স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে এবং নদীর মূল নকশা অক্ষুণ্ন রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নদীর প্রকৃত অবস্থান ও সিএস রেকর্ড বিবেচনায় রেখে খননকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি নদীর মোট ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এর অংশ হিসেবেই বর্তমানে হরিহর নদীর পুনঃখনন ও তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD