টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে অবিরাম বর্ষণের সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসায় বড়দিঘীপাড় এলাকায় দ্রুত পানি জমে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই মহাসড়কের বিস্তীর্ণ অংশ কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। সড়কের দুই পাশেও পানি জমে থাকায় স্থানীয়দের কেউ কেউ সেখানে জাল ফেলে মাছ ধরতে দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানির কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। পানির মধ্যে চলাচলের সময় অনেক গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। এতে নগরের মুরাদপুর থেকে খাগড়াছড়িগামী এবং খাগড়াছড়ি থেকে মুরাদপুরমুখী উভয় লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নিতে অনেক শিক্ষার্থীকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের কাঁধে তুলে কিংবা হাত ধরে নিরাপদে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল মান্নান বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই এই সড়কে একই চিত্র দেখা যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। খাল ও ড্রেন ভরাট এবং সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আরেক বাসিন্দা রোকসানা বেগম বলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। পানি কমতে অনেক সময় লাগে। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করে মহাসড়ক উঁচু না করলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।
এদিকে, আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে প্রায় ৩৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা এই মৌসুমে সর্বোচ্চ রেকর্ড। মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট এই টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে গিয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তাই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। এ অবস্থায় পাহাড়ের পাদদেশে এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন








