ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে না ফেরার দেশে স্বাস্থ্যকর্মী আলমগীর

দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই (এক্সপ্যান্ডেড প্রোগ্রাম অন ইমিউনাইজেশন) বিভাগের পোর্টার মো. আলমগীর হোসেন। স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মীর মৃত্যুতে সহকর্মী, স্বজন এবং এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৩৭ মিনিটে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছিলেন তিনি। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়।
মৃত্যুকালে আলমগীর হোসেন পাঁচ কন্যাসন্তানসহ পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তিনি রামগতি উপজেলার সাবেক গোয়েন্দা বাড়ি, বর্তমান রব রোড এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ফসিয়াল মিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সহকর্মীদের ভাষ্য, আলমগীর হোসেন ছিলেন একজন আন্তরিক, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যকর্মী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইপিআই পোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। টিকাদান কার্যক্রমসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মক্ষেত্রে তার বিনয়ী আচরণ, সহকর্মীদের প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব এবং কর্মনিষ্ঠা সবার কাছে প্রশংসিত ছিল।
বিজ্ঞাপন
তার মৃত্যুতে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এক শোকবার্তায় সহকর্মীরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
তারা বলেন, আলমগীর হোসেনের মৃত্যু স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় আমজাদ মিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
মরহুমের মৃত্যুতে আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়ে তার কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেছেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আলমগীর হোসেন ছিলেন একজন সৎ, নম্র ও মানবিক মানুষ। কর্মজীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। তার অকাল প্রয়াণে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা সবাই মরহুমের জন্য দোয়া কামনা করেছেন। তারা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন, যেন আলমগীর হোসেনের সব গুনাহ ক্ষমা করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এবং শোকাহত পরিবারকে এই কঠিন সময় ধৈর্য ও শক্তির সঙ্গে মোকাবিলা করার তাওফিক প্রদান করেন।








