সীমান্তে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি-গ্রামবাসী

জয়পুরহাটের ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে তিনজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় গ্রামবাসী। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সতর্কতা ও বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কথিত পুশইনের উদ্যোগ সফল হয়নি।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, শনিবার (১১ জুলাই) ভোরের দিকে জয়পুরহাট জেলার ভুটিয়াপাড়া সীমান্তের রামকৃষ্ণপুর এলাকার ২৭৫/৮-এস সাব-পিলার সংলগ্ন অংশ দিয়ে এক বৃদ্ধ ও দুই নারীকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্ত এলাকায় অস্বাভাবিক চলাচল লক্ষ্য করে বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তারা ওই তিনজনকে সীমান্তবর্তী এলাকায় আটকে রেখে দ্রুত বিজিবিকে খবর দেন। খবর পাওয়ার পর বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। পুশইনের চেষ্টা সফল না হওয়ায় ওই তিনজন সীমান্তের শূন্যরেখা বা নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেন। পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সতর্ক অবস্থান অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।
এর আগে চলতি সপ্তাহেও দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় একই ধরনের একাধিক ঘটনার খবর পাওয়া যায়। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সাতজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ৪৮ বিজিবির সদস্যদের কঠোর অবস্থানের কারণে সেই উদ্যোগও ব্যর্থ হয়।
একই দিন গভীর রাতে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার মেঘালয় সীমান্তসংলগ্ন গোমরা গ্রাম এলাকা দিয়েও আরও চারজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিজিবি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সেই ঘটনাও প্রতিহত করে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ধারাবাহিকভাবে পুশইনের অভিযোগ সামনে আসায় সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিজিবি নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।








